বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
Headline :
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের সামনে বদলির জন্য আসা শিক্ষকদের অবস্থান করায় , শতাধিক অসুস্থ* নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক বাংলার সংবাদ জমকালো আয়োজনে ভিওডি বাংলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক বাংলার সংবাদ।  কড়িয়া বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন ৫ তারিখ মোঃ মাফিজুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ: সামরিক প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যৌথ সহযোগিতার আশ্বাস ​মো লুৎফুর রহমান রাকিব আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন,নীলফামারীতে ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন ধ্বংস আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ পঞ্চগড়ে তেলবাহী ট্রাকের সজোরে ধাক্কা: ইজিবাইক চালক নিহত, আহত ৩ ​, আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন ও সেবা সহজীকরণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রদূত মো লুৎফুর রহমান রাকিব আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দিনাজপুর কাহারোলে কান্তজিউর নৌবিহারে নৌকাডুবি, ৯ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধি: সরাইলে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব: বিশ্বশান্তি কল্পে বর্ণাঢ্য আনন্দময় শোভাযাত্রা, এম বাদল খন্দকার (বিশেষ প্রতিনিধি গফরগাঁও বাজারে অগ্নিকাণ্ডে তুলার গোডাউন সহ৬দোকান পুড়ে ৩০লাখ টাকা ক্ষতি ক্ষতিগ্রস্ত মকবুল হোসেন, সিনিয়র রিপোটার

করতোয়ার গ্রাসে আশ্রয়ণ প্রকল্প, নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় শতাধিক পরিবার

Update : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

করতোয়ার গ্রাসে আশ্রয়ণ প্রকল্প, নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় শতাধিক পরিবার

আরমান হোসেন রাজু
রংপুর
বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
০১৭১৭৭৭৬৯৭২

২৪ জুলাই, ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙনে চরম হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। দিন দিন নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বসতি, যার ফলে প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে নদীপাড়ের মানুষের আতঙ্ক।

​স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর এই ভাঙন চললেও নদী তীর রক্ষায় কোনো স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। নদীর পাড় ভেঙে এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের একেবারে সন্নিকটে পৌঁছে গেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘর চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধস নামলে পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আশপাশের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে এবং নদীপাড়ের মাটিতে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। শিশুদের জন্য এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে অনেক পরিবারকে রাতে জেগে পাহারা দিতে দেখা গেছে।

​আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আদরী রাণী আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমাদের নিজেদের কোনো জমি নেই, সরকার থেকে এই ঘরটি পেয়েছিলাম। কিছুদিন আগেও এখানে আরও কয়েকটি ঘর ছিল, সেগুলো নদীতে চলে গেছে। গত ১৫-২০ দিনে ভাঙন অনেক বেড়েছে। ছোট শিশুদের নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকি; কখন ঘর ভেঙে নদীতে পড়ে যায়! এই আতঙ্কে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করতে পারি না।”

​একই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে সুরাইয়া বেগম বলেন, “নদীভাঙনের আকস্মিকতায় ঘর খুলে নেওয়ার সুযোগটুকুও পাইনি। নতুন করে ঘর তৈরি কিংবা জমি কেনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। কয়েক দিন আগেই পাশের একটি ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন আমরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি।”

​আরেক বাসিন্দা বিলকিস আক্তার বলেন, “বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। সরকার অনেক কষ্টে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছিল, এখন সেটিও হারানোর ভয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। আমাদের একটাই দাবি—আমাদের ঘরগুলো দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

​প্রভাবিত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর দাবি—জরুরি ভিত্তিতে নদী তীর সংরক্ষণে কার্যকর স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে অনতিবিলম্বে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়যেকোনো মুহূর্তে শতাধিক পরিবার পুনরায় সর্বস্ব হারিয়ে ঠিকানাহীন হয়ে পড়বে।

​এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানান, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুরক্ষার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”


More News Of This Category