তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন,নীলফামারীতে ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন ধ্বংস
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নদীর বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতির প্রবাহ রক্ষায় মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালায় একটি যৌথ টাস্কফোর্স। অভিযানকালে অবৈধ পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৬টি নৌকা এবং ৪টি ইঞ্জিন জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
যৌথ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, ৫১ বিজিবি ব্যাটেলিয়ান (রংপুর)-এর মেজর জুলকার নাঈন এবং ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তদন্ত ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এটি কোনো সাময়িক বা এককালীন অভিযান নয়। নদী রক্ষায় টাস্কফোর্সের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন যেকোনো মূল্যে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র (বোমা মেশিন) ব্যবহার করে নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে নদীর তলদেশে বিপজ্জনক গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রবাহ এবং তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন।
স্থানীয়দের দাবি—কেবল সরঞ্জাম ধ্বংস করলেই এই অপতৎপরতা বন্ধ হবে না। পাথর উত্তোলনের নেপথ্যে থাকা মূল কারিগর ও প্রভাবশালী চক্রকে শনাক্ত করে স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং নদীতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মার্চ তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে অসাধু চক্রটির হামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশসহ ১৭ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর পুলিশ কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও, জামিনে মুক্ত হয়ে তারা পুনরায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বোমা মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু করে।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং হামলায় জড়িত ও পুনরায় অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।