লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত চার দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আটটি বসতবাড়ি এবং প্রায় ৫০ বিঘা আবাদি জমি। নদীর পানি কমতে শুরু করলেও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবারের দিন কাটছে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায়।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের মাটি ক্রমাগত ধসে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়ছে। ইতোমধ্যে অনেক বাড়ির আঙিনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় ভাঙন একেবারে ঘরের দরজায় এসে পৌঁছেছে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় আকুল হয়ে মানুষ বসতঘরের টিন, ইট-কাঠ ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় মালপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগী মোত্তালিব হোসেন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “চোখের সামনে আমার বাড়িটি নদীতে চলে গেল। সারা জীবনের সঞ্চয় মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল।”
আরেক ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়া জানান, “সরকার যদি দ্রুত সহায়তার হাত না বাড়ায়, তবে আমাদের পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।”
নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘরবাড়ি, জমি—সব নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় অধিবাসীদের জোর দাবি—অবিলম্বে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদে তিস্তা নদীতে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, ভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। অতি দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, “ভাঙনকবলিত এলাকা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।