হাতীবান্ধার পূর্ব কাদমায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ; অভিযানে গিয়েও দুই ভাইকে পায়নি মাদক অধিদপ্তর।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪
লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা এলাকার বটতলা মালদাপাড়া বোর্ডেরহাট গ্রামের বাসিন্দা শ্রী অনুকুল চন্দ্র রায় ও তার ভাই শ্রী অনিক চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তারা শ্রী শরৎ কমল বর্মনের পুত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই ভাই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক এনে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন। এ কাজে তারা নিজেদের দুটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের দাবি, মোটরসাইকেল দুটির জ্বালানি ট্যাংক পরিবর্তন (কেটে বিশেষভাবে তৈরি) করা হয়েছে, যাতে গোপনে মাদক পরিবহন করা সহজ হয়। এছাড়া মোটরসাইকেল দুটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকসেবীরা ওই দুই ভাইয়ের বাড়িতে এসে মাদক সেবন করে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তারা কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আসছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (১৯ জুলাই) আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে লালমনিরহাট জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ভাই দ্রুত পালিয়ে যান। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এস্কাফ সিরাপের খালি বোতল এবং প্রায় ১০০ বোতলের মুখ (বোতলের ঢাকনাসহ) উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্তদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অভিযান শেষ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ফিরে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, “আমরা আর এই ব্যবসা করব না, ভালো হয়ে যাব।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।