মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
আদিতমারীতে অবৈধ জাল রাখার দায়ে যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড। লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪ জনগনের উন্নয়ন ও জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর, ময়মনসিংহে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মকবুল হোসেন, সিনিয়র রিপোটার স্বামীকে খুঁজতে মধুপুরে, পাশে দাঁড়াল প্রয়াস টিম—ইউএনওর নির্দেশে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: দিনাজপুর বিরলে সংযোগ সড়ক নিয়ে বিরোধে মানববন্ধনে হামলা, সাংবাদিকদেরও হেনস্তার অভিযোগ রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধি: সার্বিক উন্নয়নে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গাইবান্ধার চার এমপির সাক্ষাৎ। মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্ততিসভা অনুষ্ঠিত মোঃ আবুল খায়ের( মনোহরগঞ্জ) কুমিল্লা পারভীন ম্যাডাম— মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পারভীন ম্যাডাম শাসনের আড়ালে যে মমতা ছিল মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক স্টাফ স্টাফ দৈনিক বাংলার স্ংবাদ, মধুপুরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই তরুণ। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ দইখাওয়া টেকনিক্যাল কলেজের পেছনে মাদকের আসর? সালামকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ, ভিডিও ভাইরালের পরও থামেনি কারবার। লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২

৮৫ বিশিষ্ট নাগরিকের সংহতি নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার একের পর এক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘অগ্রযাত্রা নারী ফোরাম’। এসব ঘটনার প্রতিবাদ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ৮৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সংহতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, গত ৪ মে কুমিল্লার চান্দিনায় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ, নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও নরসিংদীর রায়পুরায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা সালিসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা জনমনে গভীর ক্ষোভ তৈরি করেছে।

এসব ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা আজ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। সামাজিক ভয়, প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় বহু পরিবার অভিযোগ দায়ের করতেই সাহস পায় না। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি প্রকাশিত তথ্যের চেয়েও ভয়ংকর।

নাগরিকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকারে নারী অধিকার, নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষ থেকে দৃঢ়, জবাবদিহিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ এখনো স্পষ্ট নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও যৌন সহিংসতা ও শিশু নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে আসছে। বিচ্ছিন্ন গ্রেপ্তার বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো ও শিশু সুরক্ষা নীতি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে নারী অধিকার ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের প্রশ্নকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও সামাজিক বিদ্বেষের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। ধর্ষণ বা নির্যাতনের দায় অপরাধীর পরিবর্তে নারীর পোশাক বা চলাফেরার ওপর চাপানোর প্রবণতা সমাজে নারীবিদ্বেষী মানসিকতাকে উসকে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিকে একটি মানবিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সরকারের প্রতি কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করে দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাসহ সব আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে যৌন সহিংসতার সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং নারী অধিকারবিরোধী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা বা প্রভাব বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব পর্যায়ে জেন্ডার সমতা, সম্মতি (consent) এবং মানবাধিকার বিষয়ে কার্যকর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দাবি জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে নীরবতা, দায়হীনতা এবং অপরাধকে আড়াল করার সংস্কৃতি বন্ধ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশের সব নাগরিক, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে সংহতি প্রকাশ করে স্বাক্ষর করেছেন- ‘নিজেরা করি’র খুশি কবীর, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, গবেষক ও অধ্যাপক ড. স্বপন আদনান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর, লেখক ও সম্পাদক আলতাফ পারভেজ, হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়কারী ড. হালিম দাদখান, ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল, অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের আহ্বায়ক জাকিয়া শিশির, সিরাজুল আলম খান ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফারাহ খান, রিভারাইন পিপলসের মহাসচিব শেখ রোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মীর্জা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ নিজার, সাংস্কৃতিক সংগঠক বীথি ঘোষ, অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের সদস্য সচিব মেহেনাজ মালা, বাদাবন সংঘের লিপি রহমান, এএলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা খান রিপা, আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আমিনুল ইসলাম বকুল ও রুপালি খাতুন, সুরভীর শ্যামলী নাহার, সুরভী, ঋদ্ধ ফাউন্ডেশনের তৃষ্ণা সরকার, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের লামিয়া ইসলাম, লেখক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব গোলাম শফিক, তরী বাংলাদেশের শামীম আহমেদ, সাংবাদিক লাইলি ইয়াসমীন, এডভোকেট বিলকিস ঝর্না, সম্ভব ইউথ অরগানাইজেশনের অনিন্দিতা আফরা ও রামিসা চৌধুরী, গণপরিষদের রোকেয়া সাভেদ মায়া, নারী উন্নয়ন সংস্থা ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রধান দীপা খালকো ও ট্রেইনার সাথী আক্তার, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, রোটারিয়ান কামরুল হাসান বাবু, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক শাহেরীন আরাফাত, আবৃত্তি শিল্পী সৈয়দ ফয়সাল আহমেদ, নৃবিজ্ঞানী সরদার আরিফুদ্দীন, শিক্ষা গবেষক ফারজানা মান্নান, ‘আইন ও বিচার’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক এডভোকেট শফিকুর রহমান, এনপিএর সেন্ট্রাল কাউন্সিল সদস্য বাকী বিল্লাহ ও শামীম আরা নীপা, ব্রতীর সানজিদা খান দীপা, ব্র্যাড বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম, টোবাকো কন্ট্রোল রিসার্চ সেলের ফারজনা লিজা, সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের কামরুন্নিসা মুন্না, সমাজ ফাউন্ডেশনের খন্দকার ইমরুল হাসান, নিকুশি সমাজ কুষ্টিয়ার সালমা খাতুন, ‘শিশুদের জন্য আমরা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হাজেরা বেগম, আইনজীবী শাহিদা আমেনা, কথাসাহিত্যিক দীপু মাহমুদ, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির (বানাসাস) সভাপতি নাসিমা আক্তার সোমা, মাযহার জীবন, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, শিক্ষক তাসনীম তরী, নোঙ্গর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সীমা জহুর, গর্জন সমাজকল্যাণ সংস্থার সহ সাধারণ সম্পাদক ফারজানা উর্মি, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিউল আলম রাসু, কবি ও রাজনৈতিক কর্মী রাসেল আহমেদ, আমরা পারবো নেটওয়ার্কের সভাপতি সন্ধ্যা রানী ভৌমিক, গল্পকার ইশরাত জাহান, এবং অধিকার, মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী সাইদ আহমেদ নাহিদ, নাদিরা পারভীন, নুরুন্নাহার বেগম, লাবনী মন্ডল, আব্দুল মজিদ অন্তর, পুরবী তালুকদার, জাকিয়া সুলতানা নীলা, সামিরা রিমা, মাহবুবা রহমান জলি, কোহিনুর খাতুন, নীলা কস্টা, সানজিদা রহমান, শামীমা পারভীন, দিলারা কেয়া, সীমা দাস সীমু, ইফতেখার আহমেদ বাবু, শশাঙ্ক বরণ রায়, আইনুন নাহার নীলিমা, সাইদ আহমেদ, ঈশিতা ইয়াসমিন, কেকা অধিকারী, তুহিন চৌধুরী, তাসমিন-ই-জান্নাত সিদ্দিকী, সরলা মূর্মূ, মেরিলিনা সরকার ও বিভা সরকার।


More News Of This Category