মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
সাঘাটায় বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডব: ২ দিনে আহত ১০, আতঙ্কে জনপদ — নেই ভ্যাকসিন।। লালমনিরহাট জেলায় নিজ যোগ্যতায় পুলিশে চাকরি পেলেন ২৪ জন, অপেক্ষমান ০৪ জন। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে। ঝালকাঠিতে লাশের খাটিয়ায় পিকাপের ধাক্কা গুরুতর আহত ০৪। ৮৫ বিশিষ্ট নাগরিকের সংহতি নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জনগণের সঙ্গে পুলিশের মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে – রূপসায় পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম। লালমনিরহাট জেলায় রংপুর রেঞ্জ আন্তঃজেলা ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত। পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সময় আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে- ,পুলিশ সুপার।

Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় প্রাইম রিপোর্টার, বাংলার সংবাদ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেছেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কারিগরি প্রক্রিয়া চলছে। উত্তরবঙ্গের মানুষকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।”
সোমবার দুপুরে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” এর আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফারাক্কা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, “আমাদের সরকার গঠনের মাত্র তিন মাস হয়েছে। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের কারিগরি, আর্থিক ও পরিবেশগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। আমরা চাই একটি টেকসই ও কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ কবে শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “একনেকে ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্যও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। কৃষি, সেচ, নদীভাঙন রোধ ও পরিবেশ রক্ষার জন্য এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ফারাক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১১ ডিসেম্বর বিদ্যমান ফারাক্কা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। সরকার নতুন করে চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যতগুলো ফারাক্কা চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৭ সালের চুক্তিটি সবচেয়ে কার্যকর ও সময়োপযোগী ছিল। আমরা সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছি।”

এর আগে “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” এর আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার একটি মহৎ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী চান, তৃণমূল থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করুক।”
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “প্রত্যেক বাবা-মা চান তাদের সন্তান প্রতিষ্ঠিত হোক। কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সন্তান যদি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহ দেখায়, তাহলে তাকে উৎসাহ দিতে হবে। খেলাধুলাও এখন একটি সম্মানজনক পেশা। একজন সফল খেলোয়াড় দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে।”

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার. শহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিস রংপুর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।

আয়োজকরা জানান, আঞ্চলিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের আট জেলার বিজয়ী দল অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী জেলাগুলো হলো রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়। বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দাবা, কাবাডি, মার্শাল আর্ট, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


More News Of This Category