এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় কর্মরত: দৈনিক ‘জনতা’ পত্রিকার প্রতিনিধি ও মীরসরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক আবদুল মান্নান রানার সাথে এক বেদনা বিঁধূর সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন আমাদের এ প্রতিবেদক। গত ১৯ জানুয়ারি (রবিবার) বেলা পৌনে ১২ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই সদরে ফাঁকা রাস্তায় এপার থেকে ওপারে পার হতে গিয়ে ডিভাইভারের ফাঁকে দন্ডায়মান থাকাবস্থায় মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন সোনা পাহাড় এলাকায় অবস্থিত বহুজাতিক কোম্পানি বিএসআরএম এর একটি ড্রাম ট্রাক আচমকা এসে তাকে ডিভাইভারের ফাঁক থেকে টেনে এনে (যেনো) চাকায় পিষ্ট করে দুই পা থেতলে দেয়। হাত, মাথা ও বুক সহ শরীরের অন্যান্য স্থানে ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মুহুর্ত্বেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।
স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য সহকর্মীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানে থাকার পর অপারগতা সহ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
এর পর চট্টগ্রাম থেকে রেফার করে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক’দিন থাকার পর থেতলে যাওয়া দু’টি পা-ই কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দেয়া হয়।
বর্তমানে তিনি নিজের এলাকা মীরসরাই পৌরসভার বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তার সহকর্মী সাংবাদিক, স্থানীয় বিএনপি দলীয় নবনির্বাচিত এমপি, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী (পরাজিত), প্রশাসনিক কর্মকর্তা/কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মী, সামাজিক সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ এবং দলীয় নেতা-কর্মী সহ আরো বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ তার বাড়িতে তাকে দেখতে যান।
যে বিএসআরএম কোম্পানির ড্রাম ট্রাক তার চলার শক্তি দু’টি পা-ই নিয়ে গেলো চিরতরে সেই বিএসআরএম কোম্পানির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সহযোগিতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হয় তাকে। যৎসামান্য সহযোগিতা করে তারা দায় এড়িয়ে সটকে পড়ে! মীরসরাই থেকে নির্বাচিত বিএনপি’র এমপি নুরুল আমিন তার সাথে দেখা করতে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। তবে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী (পরাজিত) এডভোকেট সাইফুর রহমান নগদ অর্থ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করতে না পারলে ও দেখা করে আসেন।
অন্যদিকে অন্যান্য ভাবে আরো কেউ কেউ মানবিক সহযোগিতার হস্ত প্রসারিত করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ঢাকাতে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তার কর্মস্থল (মীরসরাই প্রতিনিধি) এ্য দৈনিক ‘জনতা’ পত্রিকার পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও ঔষধ পথ্য সহ নানাদিক দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে ও জানা গেছে।
তবে, বর্তমানে সাংবাদিক রানা বাড়িতে পড়ে থাকাবস্থায় আগামীর চিকিৎসা সহ বেঁচে থাকার তাগিদে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হলে ও তেমন সহযোগিতা মিলছে না কারো কাছ থেকে।
দৈনিক ‘বাংলার সংবাদ’ পত্রিকার পক্ষ থেকে বিএসআরএম কোম্পানির ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই পা হারানো সাংবাদিক
আবদুল মান্নান রানার মুখোমুখি হতে ২৫ মার্চ (বুধবার) দুপুরের দিকে তার বাড়িতে উপস্থিত হলে এক মর্মস্পর্শী- বেদনা বিঁধূর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আলাপ প্রসঙ্গে দুর্ঘটনা সম্পর্কিত বিষয়ে কিছু-ই বলতে পারেননি তিনি। শুধু এই টুকুই বললেন যে, সামনে-পিছে কোনো গাড়ি-ই ছিলো না। অধিক দুরত্বে থাকা বিএসআরএম কোম্পানির ড্রাম ট্রাককে দেখতে পেয়েছিলাম। এই সময় আমি দুই রাস্তার মাঝখানের ডিভাইভারের ফাঁকে দাড়িয়ে ছিলাম অপরপ্রান্তের গাড়ি পার হওয়ার জন্য কিন্তু, আচমকিত ভাবে ওই ড্রাম ট্রাকটি এসে ফাঁক থেকে কি ভাবে টেনে আমাকে এই অবস্থা করে দিলো তার কিছু-ই বলতে পারছি না।
ঘটনা কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মনে করেন কি না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান- আল্লাহ- ই সব জানেন।
বর্তমানে তিনি পা এবং শারীরিক ব্যথায় ভুগছেন এবং আগামী চিকিৎসা সহ পারিবারিক ভরনপোষনের জন্য অধিক চিহ্নিত হয়ে রয়েছেন বলে ও জানালেন।
এ সময় তার একমাত্র ছোট্টো মেয়ে এবং স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক রানা ভালো থাকাবস্থায় তার ওই মেয়েটি কে সাথে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন এবং ছুটি হওয়ার পর আবার সাথে করে বাড়িতে নিয়ে যেতেন। কিন্তু, দুই পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে ঘর-বাড়িতে পড়ে থাকায় তার মেয়েকে আর স্কুলে নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসা আর সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে চাইলে তার ওই অবুঝ মেয়েটি কাঁন্না জড়িত কণ্ঠে বলে-আমাকে আর কোনো দিন আব্বু নিজে স্কুলে নিয়ে যেতে এবং নিয়ে আসতে পারবেন না! এতে সে আল্লাহর কাছে তার আব্বুর জন্য দোয়া করতে সবার প্রতি আর্জি জানিয়েছে।
অপর দিকে তার স্ত্রী কান্না মাখা চোখে তাকিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কি হবে আমার এবং ছেলে মেয়ের? আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ছাড়া আর কোনো কিছু ই ভাবতে পারছেন বলে জানান দেন তিনি। উল্লেখ্য, দুই পা হারানো সাংবাদিক আবদুল মান্নান রানা এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ভাইয়েরা দেশের বাইরে রয়েছেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সর্বশেষ আমরা দৈনিক ‘বাংলার সংবাদ’ পত্রিকার পক্ষ থেকে সাংবাদিক রানা ও তার পরিবারের জন্য সবার আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা রেখে মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ প্রশাসনিক অন্যান্য কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএসআরএম কোম্পানির সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে তার এবং পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সাহায্য সহযোগিতা আদায় করে দেয়ার জন্য ও অনুরোধ।