হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ ৩০শে মে সেই ইতিহাস বিখ্যাত ভোটের দিন ধার্য হলো। তার কিছুদিন আগে জিয়া স্বঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতি হয়ে গেছেন ফৌজি রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান,আরেক অবৈধ সায়েমকে সরিয়ে। আইন-কানুন সংবিধান ইত্যাদির বালাই ছিল না। জিয়াউর রহমানের মুখের কথাই আইন। দেশে কড়া মার্শাল ল চলছে। সংবিধান, জনগণের সকল মৌলিক অধিকার, সাংবাদপত্রের স্বাধীনতা রহিত।
তো, জেনারেল জিয়াউর রহমানের শখ হলো গণভোট করবেন। রাষ্ট্রের সকল দপ্তরে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ হলো জেনারেলের শখ পুরণ করতে। জেলায় জেলায় পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্ট নির্বাচনের প্রচারের মূল দায়িত্বে। “পাবলিক ক্যারিয়ার, ইন্টারডিষ্ট্রিক এরিয়া, সমগ্র বাংলাদেশ ৫ টন” লিখিত ট্রাকের ওপর শামিয়ানা টাঙিয়ে এলাকার সাংস্কৃতিক কর্মীরা দৈনিক ভাড়ার বিনিময়ে সারাদিন “৩০ মে গণভোটের দিন” গেয়ে বেড়াতে লাগলেন। সন্ধ্যায় বিভিন্ন মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানেও টাকার ছড়াছড়ি। সরকারি কর্মচারীরা ভোটের পোস্টার-ফেস্টুন লাগানোয় ব্যাস্ত। রেডিও-টিভিতে রাতদিন জেনারেল বন্দনা। ভোটের
ব্যালট বাক্সটাও ছিল মজার। এক বাক্সে জেনারেলের ছবি, আরেক বাক্সে কালো কাগজ সাঁটা। ভোটের ব্যালট একই। পছন্দমত বাক্সে গিয়ে ফেলতে হবে। অবশ্য ভোট শেষে দুই বাক্সের ভোট একসাথে করে ফেললে বোঝার উপায় নাই সেটি হ্যাঁ ভোট নাকি না ভোট! বাহ, একেবারে নিশ্চ্ছিদ্র ব্যাবস্থা।
ভোটের দিন এতদিনের প্রচার-প্রচারণা সবই মাঠে মারা গেলো। ভোটকেন্দ্রগুলো খাঁ খাঁ করছে। অল্প কয়েকজন ভোটার মাঝে মাঝে এসে ভোট দিয়ে গেলেন। আমরা ১২ বন্ধু মিলে ঠিক করলাম দল বেঁধে গিয়ে না বাক্সে ভোট দিয়ে আসবো। এবং না ভোট দিয়েও এলাম।
সন্ধ্যায় আমাদের কেন্দ্রের ভোট গণনায় মাত্র ৪টি না ভোট পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হলো। বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি হতভম্ব! সেদিনের অবৈধ হ্যা-না ভোটের নির্বাচন দেখে ।
–