হাকিকুল ইসলাম খোকন,
বাপসনিউজঃ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং শেখ হাসিনার পতন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার সরকার উৎখাত কোনো সাধারণ আন্দোলন ছিল না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আর এই ষড়যন্ত্রের সাথে ড. ইউনূস পুরোপুরি জড়িত। এমনকি তিনি ড. ইউনূসকে ‘আসল ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে একটি ‘বৈধ সরকার’ হিসেবে দাবি করেছেন।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
‘শেখ হাসিনা নন, আসল ফ্যাসিস্ট ড. ইউনূস’
অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেন, “আমি শেখ হাসিনার সরকারকে অনেক বিরোধিতা করেছি, কিন্তু শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলতে আর রাজি নই। ড. ইউনূস সাহেবের কাজ দেখার পর এখন আমি মনে করি, ইউনূস ইজ আ বিগার ফ্যাসিস্ট। আসল ফ্যাসিস্ট হলেন ইউনূস।”
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এই আইনজীবী বলেন, “শেখ হাসিনার সরকারকে সরানোর ষড়যন্ত্রে ইউনূস সাহেব আংশিক নয়, এক হাজার ভাগ জড়িত।”
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপীয় প্রতিনিধি ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা স্বীকার করেছেন যে ড. ইউনূস একটি বিদেশি পিআর (পাবলিক রিলেশনস) ফার্ম নিয়োগ করেছিলেন। দেশে অবস্থানরত ছাত্রনেতা ও অন্যান্যরা এই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন। তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্রকারীরা যখন যোগাযোগ করত, তখন নাহিদকে নাহিদ নামে ডাকা হতো না। তাকে ‘এলেন’ বা ‘নাসিম’ ছদ্মনাম দেওয়া হয়েছিল। আসিফ, রিজওয়ানারাও এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিল।”
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময়কার একটি ঘটনার উল্লেখ করে মোহসিন রশীদ বলেন, “দেশে ফেরার পর এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে ইউনূস সাহেবকে উপদেষ্টাদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেখানে বসে সব কেটে দেন এবং ছিঁড়ে ফেলে দেন। তখন তিনি সেনাপ্রধানকে বলেছিলেন, ‘দিস উইল নট বি অ্যান আর্মি ব্যাকড গভমেন্ট’ (এটি সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকার হবে না)।” এই কারণেই সেনাবাহিনীর সাথে ড. ইউনূসের সম্পর্ক খারাপ বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইউনূস সাহেব রাষ্ট্রপতিকে সরানোর চেষ্টাও করেছেন, কিন্তু পারেন নাই। কারণ রাষ্ট্রপতি যে এখনো টিকে আছেন, এর পেছনে সশস্ত্র বাহিনীর এক হাজার ভাগ সমর্থন রয়েছে। সেনাবাহিনীর ব্যাকিং না থাকলে এরা উনাকে তুলে ফেলে দিত।”
ড. ইউনূসের বর্তমান কার্যক্রমের সমালোচনা করে মোহসিন রশীদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি তো কোনো ব্যক্তি নন, এটি একটি বড় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ড. ইউনূস এই প্রতিষ্ঠানটিকে হেয় করেছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে পাশ কাটিয়ে ড. ইউনূস নিজেই নির্বাহী বিভাগের কাজ করছেন, অধ্যাদেশ জারি করছেন এবং বিচারপতিদের নিয়োগ দিচ্ছেন—যা নিয়মবহির্ভূত।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদকে একটি ‘বৈধ সরকার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ছাত্র, সমন্বয়ক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলো দ্বাদশ পার্লামেন্টকে মেনে নিয়েছিল। সেই বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।”
আইনজীবী মোহসিন রশীদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।