স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধ :
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর অধীনে চলমান যমুনা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের ৫ প্যাকেজে কারিগরি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্লক পিচিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে নদী তীর রক্ষা কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দি ও হলদিয়া এলাকার রক্ষা প্রকল্পের বরমতাইড় প্যাকেজ নং-১ এবং মুন্সিরহাট প্যাকেজ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, পাঁচটি প্যাকেজে একযোগে ব্লক পিচিং কাজ চলমান রয়েছে। তবে প্রতিটি প্যাকেজেই বিভিন্ন ধরনের অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ফিল্টারিং বালু নিম্নমানের ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও রাবিশযুক্ত অতি নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো প্যাকেজেই নির্ধারিত ৪ ইঞ্চি পরিমাণ খোয়া ও বালু প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, দুই নাম্বার খোয়া আর রাবিশ দিয়ে কাজ করছে। পানি আসলে ব্লকের নিচ থেকে রাবিশ ধুয়ে গিয়ে ব্লক সরে যাবে।
একইভাবে, মুন্সিরহাটের একাধিক ব্যক্তি বলেন, নিম্ন মানের দায়সারা কাজ করলে আমাদের এলাকা আবার ভেঙ্গে যাবে।
এ বিষয়ে মুন্সিরহাট প্যাকেজ-৩ এর দায়িত্বে থাকা কার্যসহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) বাবরের সঙ্গে সরেজমিন কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং সংশ্লিষ্ট সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. রুবেল সরকারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
একইভাবে বরমতাইড় প্যাকেজ-১ এর কার্যসহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) মো. আইনুলও সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনিও বিষয়টি নিয়ে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীও মুঠোফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।