লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলা, ১ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ২।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় মো. নুরনবী নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভিন্ন ধারায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: এ আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মূল আসামি মো. নুরনবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২, ৮(১) ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড।
৮(৩) ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। অন্যদিকে, মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা নুরুল হক হাতীবান্ধা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ও কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, “বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এটি একটি যুগান্তকারী রায়, যা সমাজে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন ভুক্তভোগীকে শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিলেন তাঁর বাবা। সেই সুযোগে আসামি নুরনবী তাঁকে ভুট্টাক্ষেতে তুলে নিয়ে যান এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।