জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণা দিন দিন তীব্রতা পাচ্ছে। জনসম্পৃক্ততা ও মাঠপর্যায়ের উপস্থিতিতে তিনি ইতোমধ্যেই ভোটের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনবহুল এলাকায় বিশাল প্রচার মিছিল ও একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইউনিয়নের কপালিয়া রাজবংশী পাড়া, ভবানীপুর রামোত্তম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, কুমারঘাটা বাজার ও দাশের হাট বাজারে গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রচার মিছিল ও পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ, মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ইউনুস আলী মোল্লা, রবিউল ইসলাম, আতাউর রহমান, মনিরুল ইসলাম শিপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “আমি কোনো প্রতীকের জোরে নয়, মনিরামপুরের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের জোরে নির্বাচন করতে মাঠে নেমেছি। প্রতীক নয়—মানুষই আসল শক্তি। যারা মনে করে দলীয় প্রতীক ছাড়া জয় সম্ভব নয়, আমি তাদের ভুল প্রমাণ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি প্রথমে আমাকে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নানা চাপ ও অদৃশ্য কারণে সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জনবিছিন্ন উলামায়ে ইসলাম নেতা মুফতী রশিদ আহমদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে দলের ভেতরে ব্যাপক বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, যা আজ মাঠের রাজনীতিতে স্পষ্ট।”
নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইকবাল হোসেন বলেন, “এই বিভেদ থেকেই আমি প্রমাণ করতে চাই—রাজনীতি মানুষের জন্য, কোনো গোষ্ঠী বা চাপে সিদ্ধান্তের জন্য নয়। যদি এবার আমি বিজয়ী না হতে পারি, তবে ভবিষ্যতে মনিরামপুরে কখনোই বিএনপির কেউ জনগণের প্রকৃত সমর্থন নিয়ে মনোনয়ন পাবে না—এটাই বাস্তবতা।”
তিনি মনিরামপুরের উন্নয়ন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে বলেন, “আমি একজন আইনজীবী হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সংসদ সদস্য হিসেবেও সেই লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।”
এদিকে প্রচার মিছিল ও পথসভায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেক ভোটারই বলছেন, দলীয় কোন্দল ও মনোনয়ন বাণিজ্যের বাইরে এসে একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে তারা মূল্যায়ন করতে চান। ফলে মনিরামপুরের নির্বাচনী মাঠে কলস প্রতীক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।