ভয়াবহ দুর্যোগেও হাটহাজারীতে গুলি ও কুপিয়ে একজনকে হত্যা, গ্রেফতার-১
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
সম্পত্তি বিরোধে ‘ সহোদর ভাইয়ের পরিকল্পনায়’ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের মধ্যেই হাটহাজারীতে গুলি ও কুপিয়ে মো. নুরুল আজিম (৪২) নামে এক দর্জি শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ জুলাই(শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মেখল খলিফাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরেও ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে নুরুল আজিম মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি বিলে মাছ ধরতে গেলে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত পুর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে তার পায়ে গুলি করে, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ দুপুর ১২ টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই আলী আকবর স্থানীয় সন্ত্রাসী দিদারুল আলমকে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তি আগে থেকেই নিজের জীবনের শঙ্কার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় গড়দুয়ারা এলাকা থেকে নিহতের বড় ভাই আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত দিদারুল আলমসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানায়, দিদারুলের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও সন্ত্রাসের একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ সৈয়দ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, সকালে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে নুরুল আজিমকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে নিহতের বড় ভাইকে দায়ী করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।