শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
নওগাঁয় বাংলাদেশ বিক্রয় প্রতিনিধি জোটের আলোচনা সভা ও ৪১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ​নওগাঁ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলার সংবাদ: রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার রাজনীতির পথ দেখিয়েছিলেন মোঃ সোহেল রানা, ক্রাইম রিপোর্টার, বাংলার সংবাদ। তিস্তা পাড়ে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন তিন মন্ত্রী আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ শিশু নন্দিনী হত্যা পুলিশের দুই মামলায় গ্রেপ্তার ১০, কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতংক আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ তেতুলতলা এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রতিনিধি: মোঃ আনোয়ার হোসেন বান্দরবানের প্রবীণ সাংবাদিক মূসা ফারুকীর রোগমুক্তি কামনায় কোট মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত মোহাম্মদ আকাশবান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: স্বামীর প্রতারনা অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে লালমনিরহাট হাসপাতালে ভারতীয় নারী আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় ইন্টারনেট সংযোগ নামে অনিয়ম স্টাফ রিপোর্টার, তিস্তা ব্যারাজ ও ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনে আজ লালমনিরহাট যাচ্ছেন ৩ মন্ত্রী আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ভাসল চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের টানা ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। ১৯ জুন(শুক্রবার) সকালে হওয়া এ বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ছুটির দিনেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী পেশাজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। অল্প সময়ের এ বর্ষণেই চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক দ্রুত পানির নিচে চলে যায়। সড়কে পানি জমে থাকায় অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ে। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা জলাবদ্ধতার সমস্যা ভোগ করছেন। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। রিকশাচালক রাসেল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাইম বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় যানবাহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু পরিবহনচালক অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার জন্য আলোচিত প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি জমতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালে চলমান উন্নয়নকাজের ফলে ওই এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় সামগ্রিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণের কারণেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনর্খনন ও সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।

তিস্তা পাড়ে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন তিন মন্ত্রী আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২

Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

তিস্তা পাড়ে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী
তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন তিন মন্ত্রী

আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২

তিস্তা নদীর ভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং পানির প্রবাহজনিত দুর্ভোগ থেকে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে রক্ষায় সরকার দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। একই সঙ্গে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এর বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন শেষে ব্যারেজের অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুলসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে তিস্তায় হঠাৎ প্রবল স্রোত সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিচ্ছে এবং প্রতিবছর হাজারো পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।
তিনি বলেন, “উজান থেকে যেভাবে খাড়া স্রোতে পানি নেমে আসছে, তাতে তিস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় পানি উপচে পড়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। আমরা যদি পরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিং ও দীর্ঘস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে পারি, তাহলে এই অঞ্চলের মানুষকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেjক রহমানের নির্দেশনায় বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে নদী ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা শুধু রংপুর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নদীটির সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত।
তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু বন্যা ও নদীভাঙন কমবে না, বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ একসময় উন্নয়ন ও সম্ভাবনায় রূপ নেবে।”
মন্ত্রী জানান, এটি একটি বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা সম্পন্ন করে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ উপস্থাপন করা হবে। তিনি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো তিস্তা প্রকল্পকেও জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।

তবে মন্ত্রীদের এ সফরকে ঘিরে তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে আশার পাশাপাশি সংশয়ও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা আর নতুন প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না; দেখতে চান দৃশ্যমান অগ্রগতি।

তিস্তা ব্যারেজ এলাকার কৃষক জসিম উদ্দিন (৬৫) বলেন, “তিনজন মন্ত্রী এসেছেন, এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা এখনো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো সময়সূচি বা সিদ্ধান্ত জানতে পারিনি। শুধু নদী ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণ করলেই তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে না।”
তিনি বলেন, “প্রতিবছর বন্যা ও ভাঙনে আমরা জমি হারাই, ঘর হারাই। আমাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। সেই সমাধান তিস্তা মহাপরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে।”

একই এলাকার কৃষক আনছার আলী মণ্ডল (৬০) বলেন, “তিস্তাপাড়ের মানুষ আশা করেছিল মন্ত্রীরা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন। কিন্তু আমরা তা পাইনি। বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস শুনে আসছি। এখন বাস্তব কাজ দেখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “তিস্তার মানুষকে নিয়ে আর রাজনীতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ। আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু ড্রেজিং বা বিচ্ছিন্ন বাঁধ নির্মাণ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।”

তিস্তা অববাহিকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদী শাসন, স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


More News Of This Category

মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ভাসল চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের টানা ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। ১৯ জুন(শুক্রবার) সকালে হওয়া এ বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ছুটির দিনেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী পেশাজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। অল্প সময়ের এ বর্ষণেই চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক দ্রুত পানির নিচে চলে যায়। সড়কে পানি জমে থাকায় অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ে। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা জলাবদ্ধতার সমস্যা ভোগ করছেন। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। রিকশাচালক রাসেল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাইম বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় যানবাহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু পরিবহনচালক অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার জন্য আলোচিত প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি জমতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালে চলমান উন্নয়নকাজের ফলে ওই এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় সামগ্রিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণের কারণেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনর্খনন ও সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।