মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন কারখানা। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন ছাড়াই ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে এসব কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে এসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা বিএসটিআই অনুমোদন পেলেও অধিকাংশই নিরাপদ খাদ্য আইনের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মানছে না।
শনিবার সরেজমিনে উপজেলার জুমারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘আপ্যায়ন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’ নামের একটি বেকারি কারখানা পরিদর্শনে দেখা যায়, খাদ্য প্রস্তুতের সময় কারিগররা কোনো ধরনের গ্লাভস ছাড়াই খালি হাতে ময়দা ছানছেন। উৎপাদিত পাউরুটিগুলো প্যাকেটজাত করার পর মেঝেতে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।
এছাড়া কারখানাটির সেমাই উৎপাদনের অনুমোদন না থাকলেও রং ব্যবহার করে সেমাই তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে বলে দেখা যায়। এ বিষয়ে কারখানার ম্যানেজার জানান, “ঈদের আগে প্রায় দশ থেকে পনেরো দিন আমরা সেমাই তৈরি করি।”
এদিকে কিছু বেকারির মূল ফটক বা ভবনে কোনো সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি। কেবলমাত্র আবেদন করে কিংবা অনুমোদনের দাবিতে অনেকেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই এসব কারখানা পরিচালনা করছেন।
জুমারবাড়ির দহিচড়া মোড়ে ‘ফাতেমা বেকারি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে কোনো সাইনবোর্ড নেই। নিজস্ব বাড়িতে স্থাপিত এ বেকারিটি বিএসটিআই অনুমোদিত বলে দাবি করে পরিচালনা করছেন ফিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
একই ইউনিয়নের সাইনবোর্ডবিহীন ‘মাহী ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’ তে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা নোংরা হাতে ময়দা ছেঁকে বেকারি খাদ্য তৈরি করছেন। খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত ট্রে ও ডিশগুলো অত্যন্ত নোংরা ও তেলাক্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে কারখানার মালিক পাভেল দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই অনুমোদিত।
এ ইউনিয়নের বাইরে ভরতখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও এ ধরনের বেকারি কারখানা গড়ে উঠেছে। কুকরাহাট মূল সড়কের পাশে নামবিহীন একটি কারখানা, ভাঙ্গামোড় এলাকার ‘ন্যাশনাল ফুডস’, ‘আল্লাহর দান’, উল্যা বাজার–গজারিয়া সড়কে অবস্থিত আরেকটি সাইনবোর্ডবিহীন কারখানাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে এসব বেকারি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইলতুতমিশ আকন্দ বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া উৎপাদিত খাবার খেলে ডায়রিয়া, আমাশয়, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এসব খাবার লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গাইবান্ধা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. মিলন মিয়া বলেন, “বেকারি কারখানাগুলোতে আমাদের লোক পাঠানো হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর জানান, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।