ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি, সমঝোতায় সাংবাদিক-শিক্ষক
ইউএনওর কার্যালয়ে বৈঠক; ভুল স্বীকার করে বিষয়টি আর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি : ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে শাহরাস্তিতে এক সাংবাদিক ও এক প্রধান শিক্ষকের মধ্যে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় পক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে বিষয়টি আর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জানা গেছে, সাংবাদিক মো. রুহুল আমিনের ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে টামটা উত্তর ইউনিয়নের পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শাহরাস্তি উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মকবুল আহমেদ মজুমদারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই সমাধানের উদ্যোগ নেন শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা মো. মঈনুল ইসলাম কাজল। তাঁর উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, শিক্ষক নেতা ও সহকর্মীদের নিয়ে প্রথমে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের উপজেলা কার্যালয়ে আলোচনা হয়। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ইউএনও মনিরা খাতুনের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সাংবাদিক মো. রুহুল আমিন ও প্রধান শিক্ষক মো. মকবুল আহমেদ মজুমদার নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। আলোচনার একপর্যায়ে উভয়েই নিজেদের ভুল স্বীকার করেন এবং বিষয়টি আর সামনে না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। শাহরাস্তির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন এমএসসি, প্রধান শিক্ষক মো. মকবুল আহমেদ মজুমদার ও সাংবাদিক মো. রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সাংবাদিক মো জসিম উদ্দিন, জামাল হোসেন, মোঃ হাসানুজ্জামান, মো. হানিফ মোল্লা, মোঃ সাইফ উদ্দিন, মোঃ এসকে মাসুমসহ সংশ্লিষ্টরা সমঝোতার উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন।
পুরো উদ্যোগটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম কাজল।
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে মিটে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে না দিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খোঁজা হবে।