বাদিয়াখালীতে চুরির আতঙ্ক, ভাঙারি গোডাউনে চোরাই মাল মজুতের অভিযোগ
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রাতের আঁধারে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি স্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র চুরি করা মালামাল সংগ্রহ করে ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন গোডাউনে মজুত করছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি মসজিদের মাইকের খাঁচা ও সরঞ্জাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা-জানালা, টেবিল-চেয়ার, টিউবওয়েল, সেচ পাম্পের মোটর, বিএডিসির সেচ প্রকল্পের পাইপ, বৈদ্যুতিক তার, চোরাই বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সেতুর রড ও রিং পর্যন্ত চুরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে বাদিয়াখালী বাজারের বাশহাটি সংলগ্ন উত্তর পাশে একটি ভাঙারি দোকানের গোডাউনে সরকারি সেচ প্রকল্পে ব্যবহৃত বড় পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল মজুত থাকতে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মালামালের মধ্যে চোরাই মালামালও থাকতে পারে। তারা জানান, ভাঙারি ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়ার ওই গোডাউনে বাইরের লোকজনের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়। ফলে সেখানে কী ধরনের মালামাল রাখা হয়, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বাদিয়াখালী ইউনিয়নের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিম বলেন, “এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরচক্র চুরি করা মালামাল নির্দিষ্ট কয়েকটি ভাঙারি দোকানে বিক্রি করছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন, “আমার দোকানে থাকা মালামাল আমি নিয়ম মেনেই কিনেছি। কে বা কারা এসব মাল বিক্রি করেছে, তাদের আমি চিনি না।
তবে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ফরিদ মিয়া একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দামে বিভিন্ন মালামাল কিনে থাকেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তারা তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
স্থানীয়রা বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট গোডাউনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালানো হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজিব বলেন, চুরির ঘটনায় আমরা একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।