স্টাফ রিপোর্টারঃ আরমান খান অপু। ঢাকা প্রতিদিন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর, বিশেষ করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলন’। সংগঠনটির দাবি, দেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দর দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হওয়া উচিত।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির আহ্বায়ক শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় একাধিক ভারতীয় কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি হলে বন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবিত রাজস্ব মডেলের ভিত্তিতে বছরে প্রায় ১২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৩০ বছরের চুক্তিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে সমাবেশে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সংগঠনটির দাবি, এসব প্রচারণার মাধ্যমে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বন্দরকে অকার্যকর হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন। আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনতার দলের যুগ্ম মহাসচিব ফুয়াদ সাকী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘ইসরায়েল’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, সীমান্তে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ভারত এখন ইসরায়েলের সহায়তায় চট্টগ্রাম বন্দর, সমগ্র চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজনে প্রাণের বিনিময়েও আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষা করব। কোনোভাবেই বাংলাদেশকে গাজার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেব না।”