*দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি এর গঠনতন্ত্র*
*প্রস্তাবনা:*
আমরা, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ নাগরিকবৃন্দ, বাংলাদেশের সংবিধান, জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ ও দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (UNCAC) এর আলোকে এই “দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি” গঠন করিতেছি।
*ধারা-১: নাম ও প্রকৃতি*
১.১ সংগঠনের নাম: *“দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি”*। ইংরেজিতে: “Anti-Corruption Society”।
১.২ এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী, মানবাধিকারভিত্তিক সামাজিক সংগঠন।
১.৩ এই সংগঠন ১৮৬০ সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইন (Act XXI of 1860) এর অধীনে নিবন্ধিত হইবে।
*ধারা-২: কার্যালয় ও কর্মএলাকা*
২.১ *প্রধান কার্যালয়:* ২২৫, ৪র্থ তলা, সিপাহীবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ।
২.২ *কর্মএলাকা:* সমগ্র বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় কার্যক্রম বৈশ্বিক পরিসরে সম্প্রসারণযোগ্য।
*ধারা-৩: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য*
৩.১ *দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম:* ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
৩.২ *মানবাধিকার:* নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও মর্যাদার অধিকার সুরক্ষায় আইনি সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি করা।
৩.৩ *সামাজিক কার্যক্রম:* সুশাসন, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা ক্লাব ও গণসচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা।
৩.৪ *গবেষণা ও তথ্য অধিকার:* দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ডকুমেন্টেশন, গবেষণা ও প্রতিবেদন প্রকাশ।
৩.৫ *প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা:* দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা প্রদান।
*ধারা-৪: আন্তর্জাতিক যৌথ সহযোগিতা*
৪.১ এই সোসাইটি *“আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি”* এবং *“আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত কাউন্সিল”* এর সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এর অধীনে যৌথভাবে পরিচালিত হইবে।
৪.২ যৌথ কার্যক্রম: আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তঃদেশীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪.৩ উক্ত MoU এই গঠনতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হইবে।
*ধারা-৫: সদস্যপদ*
৫.১ *যোগ্যতা:* ১৮ বছর+ বয়স্ক, দুর্নীতিবিরোধী ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বাংলাদেশী নাগরিক। ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি সদস্য হতে পারবেন না। বিদেশি নাগরিক সহযোগী সদস্য হতে পারবেন।
৫.২ *শ্রেণিবিভাগ:* ক) সাধারণ সদস্য খ) আজীবন সদস্য গ) দাতা সদস্য ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য ঙ) সম্মানিত সদস্য।
৫.৩ *চাঁদা:* সাধারণ- ভর্তি ফি ৫০০/-, মাসিক ১০০/-। আজীবন- ১০,০০০/- এককালীন। প্রাতিষ্ঠানিক- ২৫,০০০/- এককালীন।
৫.৪ *সদস্যপদ বাতিল:* সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, একটানা ৬ মাস চাঁদা না দেওয়া, বা নির্বাহী কমিটির ২/৩ অংশের সিদ্ধান্তে বাতিলযোগ্য।
*ধারা-৬: সাংগঠনিক কাঠামো*
৬.১ *সাধারণ পরিষদ:* সকল সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক ফোরাম। প্রতি বছর একবার বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) অনুষ্ঠিত হইবে।
৬.২ *নির্বাহী কমিটি:* ২ বছর মেয়াদে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট।
পদবিন্যাস: সভাপতি-১, সিনিয়র সহ-সভাপতি-১, সহ-সভাপতি-২, সাধারণ সম্পাদক-১, যুগ্ম সম্পাদক-২, সাংগঠনিক সম্পাদক-১, অর্থ সম্পাদক-১, দপ্তর সম্পাদক-১, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক-১, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক-১, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক-১, নির্বাহী সদস্য-২।
৬.৩ *উপদেষ্টা পরিষদ:* ৭ জন বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মী সমন্বয়ে গঠিত।
*ধারা-৭: ক্ষমতা ও কার্যাবলী*
৭.১ *সভাপতি:* সংগঠনের প্রধান। সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
৭.২ *সাধারণ সম্পাদক:* সংগঠনের প্রধান নির্বাহী। দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও সভা আহ্বান করবেন।
৭.৩ *অর্থ সম্পাদক:* হিসাব সংরক্ষণ ও বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করবেন।
*ধারা-৮: তহবিল ও হিসাব*
৮.১ *উৎস:* সদস্য চাঁদা, অনুদান, সরকারি/বেসরকারি প্রকল্প, আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার অনুদান, প্রকাশনা বিক্রি।
৮.২ *ব্যাংক হিসাব:* “দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি” নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খোলা হইবে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক এই ৩ জনের মধ্যে যেকোনো ২ জনের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হইবে।
৮.৩ *নিরীক্ষা:* প্রতি অর্থবছর শেষে RJSC তালিকাভুক্ত CA ফার্ম দ্বারা হিসাব নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
*ধারা-৯: সভা ও নির্বাচন*
৯.১ *সভা:* নির্বাহী কমিটির সভা প্রতি ২ মাসে ১ বার। কোরাম: মোট সদস্যের ৫০% + ১ জন।
৯.২ *নির্বাচন:* প্রতি ২ বছর অন্তর গোপন ব্যালটে সাধারণ পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হইবে। ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হইবে।
*ধারা-১০: সংবিধান সংশোধন*
১০.১ সাধারণ পরিষদের AGM-এ উপস্থিত সদস্যের ২/৩ অংশের ভোটে এই সংবিধান সংশোধন করা যাইবে।
১০.২ ধারা-৪ অর্থাৎ আন্তর্জাতিক যৌথ সহযোগিতা সংক্রান্ত কোনো সংশোধনের জন্য “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দুর্নীতি বিরোধী সোসাইটি” ও “আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত কাউন্সিল” এর লিখিত সম্মতি আবশ্যক।
*ধারা-১১: বিলুপ্তি*
১১.১ সাধারণ পরিষদের মোট সদস্যের ৩/৪ অংশের সমর্থনে সংগঠন বিলুপ্ত করা যাইবে।
১১.২ বিলুপ্তির পর সকল দায় পরিশোধান্তে অবশিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অনুরূপ উদ্দেশ্যে পরিচালিত অন্য কোনো নিবন্ধিত সংগঠনকে দান করিতে হইবে। অগ্রাধিকার পাইবে ধারা-৪ এ উল্লিখিত আন্তর্জাতিক সহযোগী সংগঠনদ্বয়।
*ধারা-১২: বিবিধ*
১২.১ সংগঠন বাংলাদেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক সনদের পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করিবে না।
১২.২ সংগঠন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হইবে।
১২.৩ এই গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নাই এমন বিষয়ে ১৮৬০ সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইন প্রযোজ্য হবে।