——————————————————
গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির বাতাসে এখন স্পষ্ট উষ্ণতা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানা সমীকরণের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এক পরিচিত নাম গোলাম কিবরিয়া তালুকদার । দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ঘাম ঝরানো এই সংগঠক এবার সরাসরি জনসেবার মঞ্চে উঠে আসতে চান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে।
ছাত্ররাজনীতির পথ বেয়ে সংগঠনের ভেতর থেকে উঠে আসা গোলাম কিবরিয়া তালুকদার বর্তমানে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ইউরোপ ইতালি বিএনপি, তথ্য উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সহ-সম্পাদক, দৈনিক বাংলা সংবাদ পত্রিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কর্মীদের পাশে থাকা, প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সংগঠনকে সচল রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা স্থানীয়ভাবে বেশ আলোচিত। সেই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল সংযোগকে পুঁজি করেই এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজের অবস্থানকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছেন তিনি।
মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের অলিগলি থেকে শুরু করে বাজার-চায়ের দোকান সবখানেই ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে তার উপস্থিতি। আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগেই যেন বেশি স্বাচ্ছন্দ্য তার। কোথাও বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, আবার কোথাও উঠান বৈঠকে মনোযোগ দিয়ে শুনছেন সাধারণ মানুষের সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশা। তার প্রচারণায় বারবার উঠে আসছে উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয়দের মতে, ‘মাঠের মানুষ’ হিসেবেই গোলাম কিবরিয়া তালুকদারের সবচেয়ে বড় পরিচয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ফলে এলাকায় তার একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যক্তিগত জীবনাচরণেও একটি ভিন্ন বার্তা দিতে চান এই প্রার্থী। নিজেকে অধূমপায়ী হিসেবে তুলে ধরে তিনি বিশ্বাস করেন, একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত জীবনধারাও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষায়, ‘ভালো সমাজ গড়তে হলে নিজেকেই আগে উদাহরণ হতে হবে।’
প্রচারণার প্রতিটি পর্যায়ে তিনি জোর দিচ্ছেন একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সচেতন সমাজ বিনির্মাণে। শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামো উন্নয়ন মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাে তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ বিষয়ে তার দৃঢ় অবস্থান ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশ মনে করেন, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝতে সহায়তা করেছে, যা ভবিষ্যতে কার্যকর নেতৃত্বে রূপ নিতে পারে। তাদের প্রত্যাশা, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ইউনিয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।
গোলাম কিবরিয়া তালুকদার নিজেও দায়িত্বের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তার মতে, চেয়ারম্যান পদ কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। নির্বাচিত হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের পাশে থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সবকিছু মিলিয়ে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে গোলাম কিবরিয়া তালুকদারের অংশগ্রহণ নতুন করে উত্তেজনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এখন সময়ই বলে দেবে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সংগঠক ভোটের পরীক্ষায় কতটা সফল হয়ে মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেন