বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন
Headline :
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ৭ নং এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ খান

৩৫ বছরের দাপট শেষ! মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মিজানকে শোকজ।

Update : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

মোঃ দুলাল সরকার গজারিয়ায় মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রায় তিন দশক ধরে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়কে নিজের দখলে রাখা স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানকে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৮৮ সালে স্টেনোটাইপিস্ট পদে যোগদানের পর থেকে মিজানুর রহমান কার্যালয়ে অলিখিত কর্তৃপক্ষের মতো আচরণ করে আসছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বদলির আদেশ থাকলেও হাইকোর্টের রিট ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি বহাল তবিয়তে মুন্সীগঞ্জে অবস্থান করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান জেলার প্রায় সব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেছেন। মালিকদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও মালিক দাবি করেছেন, জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের লাইসেন্স এখনও নবায়ন হয়নি। তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের চুক্তিতে তা ছাড়াই ব্যবসা চালানো সম্ভব।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৪২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মিজানুর রহমান একটি টাকার লেনদেন নিয়ে কথাবার্তা করছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি তো ৭০ আনতে বলছি, ৫০ হবে না।” অপর ব্যক্তি জানান, আপাতত ৫০ দেওয়ার কথা, তখন মিজানুর রহমান বলেন, “ও আচ্ছা, ঠিক আছে।”
মিজানুর রহমান নিজস্ব মন্তব্যে বলেন, “ভিডিওটি দেখেছি। এটি ঘুষ নয়, আমার বাসা ও দোকান ভাড়া সংক্রান্ত টাকা।”
সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। দেশে ফেরার সময় স্বর্ণ ও সৌদি রিয়াল নিয়ে আটক হন এবং প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকেন। এতে অফিসে নির্ধারিত সময়ে যোগদান করতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক জানান, লাইসেন্স নবায়নের জন্য বহুবার চেষ্টা করেও কাজ হয়নি। পরে মিজানুর রহমানের সঙ্গে ৮০ হাজার টাকায় সমঝোতা করে নবায়ন সম্ভব হয়। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতেও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়।
এবারের শোকজ প্রক্রিয়া কি মিজানুর রহমানের দীর্ঘ ৩৫ বছরের দাপট ভেঙে দিতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


More News Of This Category