দেহব্যবসার জেরে খুলনায় ইজিবাইক চালক হত্যা
( দৈনিক বাংলার সংবাদ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ সোহেল রানা )
ইজিবাইক ছিনিয়ে নিতে চালক মারুফ সর্দার ওরফে ওমরকে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন দম্পতি মুরাদ মোল্লা ও ফাল্গুনী খাতুন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেহব্যবসার সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্কে জেরে হত্যার তথ্য উঠে এসেছে।
হরিণটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, পেশাদার দেহব্যবসার সুবাদে ফাল্গুনী খাতুনের সাথে মুরাদ মোল্লার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে ছাড়াই তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতেন। আবাসিক হোটেল থেকে মুরাদের বাড়িতে যাওয়ার পথে ইজিবাইক চালক মারুফের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন ফাল্গুনী।
চালকের একটি পা না থাকায় ইজিবাইকের ওপর তাদের লোভ পড়ে। ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা থেকেই হত্যার ছক কষে তারা।
ওসি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ মার্চ সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়া মারুফকে ফোন করে মুরাদের বাড়িতে ডাকা হয়। প্রথমে চায়ের কাপে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়। কাজ না হওয়ায় রাত ১০টার দিকে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। ১৫ মিনিট পর মারুফ নিস্তেজ হয়ে পড়লে রাত আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ইজিবাইক টুকরো করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
হত্যার পর রহস্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে ফাল্গুনী মুরাদকে বিয়ে করেন। শুরুতে সংসার ভালো চললেও পরে ঝগড়া-মারধর লেগে থাকে। গত ১৩ জুলাই মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করলে সোমবার সকালে থানায় এসে মারুফ হত্যার রহস্য ফাঁস করেন ফাল্গুনী। তার তথ্যে মুরাদকে আটক করে পুলিশ এবং মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিল মুহিমের আদালতে টানা ৪ ঘণ্টা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মুরাদ ও ফাল্গুনী। এর আগে সোমবার রাতে নিহতের বোন লিনা খাতুন মামলা দায়ের করেন।
মারুফ খালিশপুরের পিপলস ব্যাচেলার কলোনিতে মা, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে থাকতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাতেন। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।