হাকিকুল ইসলাম খেকন,বাপসনিউজঃ
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে বিস্ফোরক ডিভাইস নিক্ষেপের ঘটনার একদিন পর আরও একটি ‘সন্দেহজনক ডিভাইস’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৮ মার্চ রোববার বিকেলে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ওই ডিভাইসটি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।
পুলিশ জানায়, ইস্ট এন্ড অ্যাভিনিউয়ের ৮১তম ও ৮২তম স্ট্রিটের মাঝামাঝি এলাকায় পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর ডিভাইসটি দেখা যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং আশপাশের কয়েকটি ভবন থেকে সীমিত পরিসরে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে এনওয়াইপিডি বোম্ব স্কোয়াডের একাধিক গাড়ি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িটি পরীক্ষা করার পর সেটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডিভাইসটি সরিয়ে নেওয়ার পর বন্ধ করে দেওয়া রাস্তাগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ডিভাইসটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ৭ মার্চ শনিবার গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে নিক্ষেপ করা ডিভাইসটি সত্যিকারের বিস্ফোরক ছিল বলে জানান এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো ভুয়া ডিভাইস বা স্মোক বোমা নয়; এটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED), যা গুরুতর আহত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারত।’
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (এফবিআই) জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া ডিভাইসটি একটি আইইডি বিস্ফোরক।
শনিবারের ঘটনায় পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা এমির বালাত ও ইব্রাহিম কাইউমি নামে দুই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ওই দিনের বিক্ষোভকে ঘিরে মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপাবলিকান কর্মী জেক ল্যাংয়ের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকারী গ্রেসি ম্যানশনের সামনে জড়ো হলে তাদের মুখোমুখি হয় প্রায় ১২৫ জন পাল্টা বিক্ষোভকারী, যারা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদবিরোধী একটি সংগঠনের সদস্য। এর পরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সহিংসতা শুরু হয়।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, শনিবারের ঘটনাটি তদন্তে এনওয়াইপিডিকে সহায়তা করছে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ এবং যৌথ সন্ত্রাসবাদ টাস্কফোর্স।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের অঙ্গরাজ্যে কোনো ধরনের সহিংসতার স্থান নেই। এই কাপুরুষোচিত ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি গ্রেসি ম্যানশনের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই বিক্ষোভ ছিল ‘বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রতিবাদে সহিংসতা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। বিস্ফোরক ব্যবহার করে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা শুধু অপরাধই নয়, এটি আমাদের সমাজের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’