২৩ বছর পর খোঁজ মিলল ‘শানু আপার’
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৩০২ নম্বর কক্ষের স্মৃতি, ফেসবুক পোস্টে মিলল ঠিকানা
বিশেষ প্রতিনিধি : একটি পুরোনো ছবি। কয়েকটি স্মৃতি। আর প্রিয় এক মানুষের খোঁজ। এভাবেই কেটে গেছে ২৩ বছর। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ৩০২ নম্বর কক্ষের সেই সময়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে এতদিন পর আবার ‘শানু আপা’র সন্ধান পেলেন তাঁর এক সময়ের ছোট বোনের মতো সহপাঠী ছায়েরা বিলকিস।
২০০৩ সালের পর আর কোনো যোগাযোগ ছিল না শাহানারা আক্তার শানুর সঙ্গে। কোথায় আছেন, কেমন আছেন—জানা ছিল না কিছুই। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু স্মৃতিতে রয়ে গেছেন সেই ‘শানু আপা’।
সম্প্রতি পুরোনো একটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে শানু আপার সন্ধান চান ছায়েরা বিলকিস। তাঁর সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতজনদের মধ্যে শুরু হয় খোঁজ। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্র ধরে পাওয়া যায় শানু আপার ঠিকানা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শাহানারা আক্তার শানুর বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম আবদুল আজিজ। ঠিকানা—খিলা মজুমদার বাড়ি (সূদুর বাড়ি), ডাকঘর বেরনাইয়া বাজার, উপজেলা শাহরাস্তি, জেলা চাঁদপুর।
ছায়েরা বিলকিসের বর্ণনায়, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স পড়ার সময় শানুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে থাকতেন শানু। বড় বোনের মতো স্নেহ করতেন, আবার প্রয়োজনের সময় শাসন, পরামর্শ ও আদেশও দিতেন। সেই সম্পর্কের উষ্ণতা সময়ের দূরত্বেও মুছে যায়নি।
অনার্স পড়ার সময় শানুর বিয়ে হয়। এরপর ২০০৩ সালের পর ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ। দীর্ঘ সময় পরও তাঁকে ভুলতে পারেননি ছায়েরা বিলকিস। পুরোনো ছবিটি সামনে আসতেই তাই আবার জেগে ওঠে হারানো সেই সম্পর্কের স্মৃতি।
ফেসবুক পোস্টে ছায়েরা বিলকিস লিখেছিলেন, অনার্স জীবনে শানু আপা তাঁকে ছোট বোনের মতো স্নেহ ও বড় বোনের মতো আদেশ-উপদেশ-পরামর্শ দিতেন। তাঁর কাছে শানু ছিলেন বিশেষ একজন মানুষ।
সেই আবেগঘন স্মৃতিই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেয় কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। দীর্ঘ ২৩ বছর পর প্রিয় মানুষের খোঁজ পাওয়ার মধ্য দিয়ে যোগাযোগের একটি নতুন দরজাও খুলেছে।
তবে শানু আপার বর্তমান পেশা, পারিবারিক জীবন কিংবা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাওয়া ঠিকানাটি আপাতত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা ও যোগাযোগ স্থাপনের সূত্র হিসেবেই জানা গেছে।
একটি পুরোনো ছবি কখনো কখনো শুধু অতীতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে না, ফিরিয়ে আনে হারিয়ে যাওয়া মানুষকেও। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৩০২ নম্বর কক্ষের সেই দিনগুলো আজ অনেক দূরের। কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক থাকে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে দূরে গেলেও স্মৃতি থেকে মুছে যায় না। ২৩ বছর পর ‘শানু আপা’র খোঁজ মেলার গল্পটি যেন সেই অমলিন সম্পর্কেরই এক মানবিক অধ্যায়।