সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
সিঙ্গারবিল থেকে ১১০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক। মান্দায় ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, ৪ মাস পর তরুণীকে নিয়ে উধাও যুবক: আতঙ্কে পরিবার ঘানিতে সরিষার তেল মাড়াই দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত খামার ঘুরে খেলেন খাঁটি দুধ। পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও বাইসাইকেল আটক লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা মোঃসেলিম মিয়া গোমস্তাপুরে সড়কের পাশে অটো রাইস মিল নির্মাণ, সড়কে বালু-নির্মাণসামগ্রী—দুর্ঘটনার শঙ্কা মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ কসমেটিক্স-বিকাশের দোকানের আড়ালে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ! জুয়েলকে ঘিরে চাঞ্চল্য। তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহন করলেন ডা. নূরুল হক “হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের” কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

লামায় পাঁচ ইটভাটাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন : নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা । মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি

Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

লামায় পাঁচ ইটভাটাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন : নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা ।

মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করিয়াছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন।
অভিযানে জরিমানার আওতায় আসা ইটভাটাগুলো হইল, ডিবিএম, এমএমবি, এমবিআই, এবিসি-৪ ও ইউএমবি। ভাটা পরিচালনায় আইন ও পরিবেশগত বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে অর্থদণ্ড প্রদান করা হইলে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ধারা ৫-এর বিধান লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ১৫ অনুযায়ী এসব অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আইনটির বিধান অনুযায়ী কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত নির্দিষ্ট জলাশয় বা অন্যান্য স্থান হইতে মাটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রহিয়াছে। সংশোধিত আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ডেরও বিধান রাখা হইয়াছে।
এ ছাড়া ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রেও আইনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হইয়াছে। আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, উপজেলা সদর, বন, অভয়ারণ্য, বাগান, জলাভূমি, কৃষিজমি ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাসহ নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ এলাকার সীমানা, সরকারি বনাঞ্চল, পাহাড়-টিলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিশেষ স্থাপনার নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যেও ইটভাটা স্থাপনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। পার্বত্য জেলায় ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান অনুসরণের বিধান রয়েছে।
আইনটির ১৩ ধারায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিদর্শনের ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নির্ধারিত পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১৯ ধারায় মোবাইল কোর্ট আইনের বিধান সাপেক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার ও দণ্ড প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অভিযান প্রসঙ্গে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইটভাটা পরিচালনায় প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকিবে। আইন অমান্য করিয়া কোনো ইটভাটা পরিচালিত হইলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে সরকার আইন প্রণয়ন করিয়াছে। সংশ্লিষ্ট আইনের প্রস্তাবনাতেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লামার পাহাড়ি জনপদে পরিবেশের ভারসাম্য, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনসম্মতভাবে ইটভাটা পরিচালনা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকিলে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলিয়া মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


More News Of This Category