তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়।
লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রোববার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ অবকাঠামো তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি তিস্তা নদীর বর্তমান পানির পরিস্থিতি, সেচে পানি সরবরাহ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং উত্তরাঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নে তিস্তা অবসর রেস্ট হাউজে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
সভায় তিস্তা ব্যারেজের পরিচালনা, নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ কার্যক্রম, পানি বণ্টন এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তিস্তার বর্তমান পরিস্থিতি, নদীর নাব্যতা সংকট এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে সেচ ও কৃষিতে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ সম্পর্কেও রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও নৌ-যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়টি উত্তরাঞ্চলে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
মতবিনিময় সভায় পাউবোর মহাপরিচালক রুহুল আমিন, উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী ড. সরফরাজ বান্দা, রংপুর সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব, সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী, হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র এবং ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় শেষে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত তিস্তা ব্যারেজের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ব্যারেজের পানি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। পরে তিস্তা নদীর পানির স্তর, সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা এবং ব্যারেজের মূল সেতু পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন।
রেস্ট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ শেষে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রদূত পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের উদ্দেশে তিস্তা ব্যারেজ এলাকা ত্যাগ করেন। এর আগে সকালে তিনি ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী ড. সরফরাজ বান্দা জানান, তিস্তা ব্যারেজ উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যারেজের মাধ্যমে তিস্তার পানি সেচকাজে ব্যবহার করা হয়। তবে শুষ্ক মৌসুমে উজান থেকে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় তিস্তা অববাহিকার কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে বর্ষায় অতিরিক্ত পানিপ্রবাহ ও নদীভাঙনও তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
’তিস্তা নদী, পানি, ভাঙন, শুস্ক ও বর্ষা মৌসুমের তিস্তার অবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। তাকে এ ব্যপারে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে,’ তিনি বলেন।
পরিদর্শনের সময় তিস্তা ব্যারেজ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।