মান্দায় ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, ৪ মাস পর তরুণীকে নিয়ে উধাও যুবক: আতঙ্কে পরিবার
মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা গোপন করে এবং ভুয়া জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে এক তরুণীকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রায় ৪ মাস পর গভীর রাতে ওই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ চকবাবুল গ্রামে। নিখোঁজ তরুণীর নাম সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২০ মার্চ স্থানীয় একটি কাজী অফিসে ইমরান নামে এক যুবকের সঙ্গে সুমাইয়ার বিয়ে হয়।
তরুণীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় ওই যুবক নিজেকে মো. ইমরান, পিতা ইব্রাহিম হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি যে জন্মনিবন্ধন দেখান, তাতেও একই পরিচয় উল্লেখ ছিল। সেখানে তার ঠিকানা হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের বড় মেরুং গ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়।
বিয়ের পর ইমরান পরিচয় দেওয়া ওই যুবক সুমাইয়াকে নিয়ে মান্দায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। প্রায় চার মাস পর গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সুমাইয়ার সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে গত ২১ জুলাই থেকে তার সঙ্গে পরিবারের কারও কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে খোঁজ করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ইমরান নামে পরিচয় দেওয়া ওই যুবকের প্রকৃত নাম দ্বীপ্পো চাকমা বলে তারা দাবি করছেন। তার বাবার নাম গোলক চাকমা, মায়ের নাম কল্পনা চাকমা এবং বর্তমান ঠিকানা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বড়দাম গ্রাম বলে তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।
সুমাইয়ার মা বলেন, “বিয়ের সময় আমার মেয়েকে নিজের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা ভিন্নভাবে জানিয়েছিল। বিয়ের পর প্রায় চার মাস আমাদের বাড়িতেই ছিল। পরে রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। মেয়েটা কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। এতে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় দেখানো জন্মনিবন্ধন নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। ওই যুবকের প্রকৃত পরিচয় ও মেয়ের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
পরিবারের স্বজনরা জানান, মেয়েকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত যুবক বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।