রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
Headline :
রংপুরে মহিপুর তিস্তা সেতু পানির তীব্র স্রোতে ধসে যাচ্ছে সুরক্ষা বাঁধ, হুমকিতে সেতু ও সড়ক আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৭৬৯৭২ নীলফামারীতে কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া কমানোর দাবিতে ক্ষুব্ধ চাষিদের মানববন্ধন আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন—ত্রাণমন্ত্রী দুলু আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ নদীভাঙন হামাকগুলা শ্যাষ করি ফ্যালবার নাইকছে’ মানববন্ধনে ভাঙনকবলিত মানুষদের কান্না আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ রংপুরের তারাগঞ্জ সুরতহাল রিপোর্ট বলছে স্কুলছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ ভোলাহাটে গুজবের ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১; আহত ১২! সংঘর্ষে মৃতের ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে স্থানীয়রা গ্রামছাড়া!! এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ সহ গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক রেজানুর জামিনে মূক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজের সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে ভারতীয় প্রবাসী আনাস আবদুল লতিফ একটি বিশেষ ঘটনার কথা স্মরণ করেন। মধুপুরে চাঁদের হাঁসি রেস্টুরেন্ট নিয়ে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন আঃ হামিদ মধুপুর( টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬’ উদ্বোধন, সবুজায়নের বার্তা নিয়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

ভোলাহাটে গুজবের ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১; আহত ১২! সংঘর্ষে মৃতের ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে স্থানীয়রা গ্রামছাড়া!! এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ভোলাহাটে গুজবের ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১; আহত ১২! সংঘর্ষে মৃতের ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে স্থানীয়রা গ্রামছাড়া!!

এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

ভোলাহাটে পূর্ব শত্রুতার জের ও গুজবের ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ঘটনায় আসাদুল ইসলাম (৫০) নামে ১ জন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত। গত ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল ইসলাম বটতলা গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও মামলা দায়ের ও আসামি শনাক্তকরণকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অনেককে গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে যেতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসের ৩য় রোজার দিন উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের পক্ষ ইলিয়াসের ছেলে দেলোয়ার, বিপক্ষ আসাদুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রশিদ এবং বাইসাপুকুর গ্রামের শাহীন আলী মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে দেলোয়ার গুরুতর আহত হয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আব্দুর রশিদ ও শাহীনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। ঘটনার কয়েকদিন আগে আব্দুর রশিদ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান।

স্থানীয়দের দাবী, ঢাকায় আব্দুর রশিদকে মারধরের খবরকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার দিন সকালে আসাদুল ইসলাম ও তার ৩ ভাই-ভাতিজাসহ_প্রতিপক্ষ ইলিয়াস এবং তার জামাতা বাবলুর ওপর হামলা চালান। এতে তারা আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে রয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহত ইলিয়াস ও তার জামাই বাবলু মারা গেছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা আসাদুল ইসলাম ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আসাদুল, তার ভাই আশরাফুল ও আবু তালেবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং তার বোন খোদিজা ও ভাই ফুজুল আলী এবং নজরুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। তবে আগুনে পুড়া ও ভাঙচুরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিক তথ্য জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ৩টি বাড়ীঘরে আগুন দিলে আগুন নিভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ীকেও উত্তেজিত জনতা বাঁধাপ্রদাণ করে। এমনকি পুলিশ প্রশাসনকেও নানান ধরণের অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে ঐ গ্রামবাসীগণ। তারপরেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ধৈর্য্যের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের দাবী ও প্রত্যক্ষ জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে ৩টি বাড়ির সম্পূর্ণ আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এমনকি ঘরের ভিতর থাকা মটরসাইকেলও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়াও ভাঙচুরকৃত ঘরবাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাটেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জরুরী ভিত্তিতে গুরুতর আহতদের ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল ওয়াজিদ ফরহাদ জানান, ঘটনায় মোট ১২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে ৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান, দুজন হাসপাতালে ভর্তি ছিলো এবং ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপরদিকে, গুরুতর আহত আসাদুল ইসলামকে রাজশাহীতে নেয়ার পথে তার অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। আহত ২ ব্যক্তি মারা গেছেন—এমন ভুল তথ্য ও গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন আসাদুল ও তার স্বজনদের ওপর হামলা চালায় এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। তিনি আরো জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মো. হাসান তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মামলার সার্বিক তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা আসামি করায় অনেক নিরীহ ব্যক্তি গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিজ গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে ঘটনার পর কয়েকদিন গ্রামে অনেকটা পুরুষশূন্য পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয়দের অনেকে জানান, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় দু’জন-সারোয়ার মাষ্টার ও বর্তমান মেম্বার বাবুর ভূমিকা ছিল প্রশসংনীয় বলে তারা মত প্রকাশ করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

২১.০৬.২০২৬ ইং


More News Of This Category