*ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সংকটে ভাড়া দ্বিগুণ, যাত্রী-চালকদের মাঝে প্রতিনিয়ত ঝামেলা*
এম বাদল খন্দকার( বিশেষ প্রতিনিধি)
গ্যাসের তীব্র সংকট ও কম চাপের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বাস, সিএনজি ও অটোরিকশার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রতি মুহূর্তে ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালক-কন্টাক্টরদের মধ্যে ঝগড়া, বাকবিতণ্ডা লেগেই আছে।
কী ঘটছে?
গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনগুলোর জন্য প্রতিদিন বরাদ্দ ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস থাকলেও চাহিদা আরও বেশি।
স্বাভাবিকভাবে ১২-১৫ পিএসআই চাপ লাগলেও স্টেশনগুলো পাচ্ছে মাত্র ১-২ পিএসআই। চাপ কম থাকায় মেশিন বারবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না।
সরাইলের সোপান ফিলিং স্টেশনের সিএনজি চালক মো. ইয়াছিন বলেন, “বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় গ্যাস পেয়েছি। তাও মাত্র ১৫৫ টাকার”। আরেক চালক আক্কাস মিয়া জানান, “অর্ধেক দিন চলে যায় গ্যাসের লাইনে। যে গ্যাস পাই তাতে ২টার বেশি ট্রিপ দেয়া যায় না”। 0b0d
ভাড়া দ্বিগুণ
গ্যাস কম পাওয়ায় ট্রিপ কমে যাওয়ায় চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ:
– *১০ টাকার ভাড়া এখন ২০-২৫ টাকা*
– *৩০ টাকার ভাড়া এখন ৫০ টাকা*
*ব্রাক্ষণবাড়ীয়া থেকে বিশ্বরোড় সি এন জি ভাড়া ৫০ টাকা ভাড়া ছিল বতমানে ৮০ টাকা
বাস, সিএনজি, অটোরিকশা সব ক্ষেত্রেই একই চিত্র। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া না মানায় প্রতি স্টপেজে যাত্রীদের সঙ্গে কন্টাক্টর ও চালকদের ঝামেলা হচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাসের ডিজিএম প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, “এলএনজি সংকটের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। চাপজনিত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে”।
যাত্রীদের দুর্ভোগ
ভাড়া বাড়ার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন, আবার অনেকে পথেই নেমে যাচ্ছেন।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন গ্যাসের দাম ও সরবরাহ কম থাকায় তাদের খরচ বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সংগঠনগুলো বলছে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা হোক। তা না হলে জেলায় যানবাহন সংকট ও যাত্রী হয়রানি আরও বাড়বে।