*
*ঢাকা, ১ জুন ২০২৬* — দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো নীরব নেই। সাম্প্রতিক নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো একাধিক বিবৃতি ও চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
*দেশীয় সংস্থাগুলোর বক্তব্য*
আইন ও সালিশ কেন্দ্র *ASK* ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনের পর সহিংসতা নিয়ে “গভীর উদ্বেগ” জানিয়েছে। বিবৃতিতে ASK বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মীদের প্রতিহিংসা, হুমকি ও জমি দখল থেকে বিরত রাখতে হবে। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর হামলা বন্ধ করতে হবে। ASK জানায়, “রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা”।
মানবাধিকার সংস্থা *Odhikar* জানিয়েছে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ১০ জন নিহত ও ৪৭৬ জন আহত হয়েছেন। তারা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
*Manabadhikar Shongskriti Foundation MSF* ও *ASK* এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে মব জাস্টিসে ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন। ASK মন্তব্য করেছে, “রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন কাঙ্ক্ষিত উন্নতি আনতে পারেনি। বরং পুরনো দমন-পীড়নের ধরণ নতুন রূপে চলছে”। প্রতিবেদনে বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতিকে “অস্থিতিশীল ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন *NHRC* ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ অপরিবর্তিত রেখে সংসদে পাশ” করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
*আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া*
গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে Human Rights Watch, Amnesty International সহ ৯টি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে তারা বলেছে, গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা কমলেও অন্তর্বর্তী সরকার “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের খেয়ালি আটক” বন্ধ করতে পারেনি এবং সাংবাদিক-সংখ্যালঘু-সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে মব হামলা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার *Volker Türk* বাংলাদেশের চলমান ট্রানজিশনকে “মানবাধিকার-ভিত্তিক শাসনের ঐতিহাসিক সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করে সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন।
*Amnesty International* প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে দেওয়া চিঠিতে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ এর The Daily Star ও Prothom Alo অফিসে অগ্নিসংযোগ ও সংখ্যালঘু লিঞ্চিং এর ঘটনায় সরকারের দুর্বল প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছে।
*উপসংহার*
জনমনে উদ্বেগের পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সক্রিয় প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনও নজরদারিতে আছে। সংস্থাগুলোর মূল দাবি — দ্রুত তদন্ত, জবাবদিহি ও দুর্বল গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যেমন:
*”উদ্বেগ বাড়ছে, চুপ নেই মানবাধিকার সংস্থা:
মোঃ আবুল হাসেম প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বাংলার সংবাদ ও চেয়ারম্যান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেটর কাউন্সিল।