সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
Headline :
পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও বাইসাইকেল আটক লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা মোঃসেলিম মিয়া গোমস্তাপুরে সড়কের পাশে অটো রাইস মিল নির্মাণ, সড়কে বালু-নির্মাণসামগ্রী—দুর্ঘটনার শঙ্কা মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ কসমেটিক্স-বিকাশের দোকানের আড়ালে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ! জুয়েলকে ঘিরে চাঞ্চল্য। তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহন করলেন ডা. নূরুল হক “হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের” কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস নীলফামারীতে ৪ শিশুকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টা চেষ্টা, বৃদ্ধ গ্রেফতার। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ সিরাজগঞ্জে নাটুয়াপাড়ায় লিও পাম্প বাংলাদেশের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি সার্ভিস ক্যাম্প সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি মধুপুরে মাদক-জুয়া ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মতবিনিময় আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

পূর্বতন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত **ইপিআইডিসি

Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

(EPIDC)** বা ‘পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা’ নিয়ে একটি সহজবোধ্য নিবন্ধ নিচে দেওয়া হলো:

## ইপিআইডিসি (EPIDC):

বাংলাদেশের শিল্পায়নের ভিত্তিপ্রস্তর
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে **ইপিআইডিসি**-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬২ সালে যখন তৎকালীন পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (PIDC)-কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, তখন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য তৈরি করা হয় ‘ইপিআইডিসি’। মূলত কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলকে শিল্পের দিকে ধাবিত করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য।

## ইপিআইডিসি-র অধীনে গড়ে ওঠা প্রধান শিল্পসমূহ

ইপিআইডিসি-র হাত ধরেই তৎকালীন সময়ে এ দেশে বড় বড় কল-কারখানা গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

* **পাট শিল্প:**

আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ), যা একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল ছিল।

* **কাগজ শিল্প:**

রাঙামাটির কর্ণফুলী পেপার মিলস।

* **সার শিল্প:**

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রাকৃতিক গ্যাস সার কারখানা (সিলেট), যা ছিল এ অঞ্চলের প্রথম সার কারখানা।

* **চিনি শিল্প:**

জিল বাংলা এবং উত্তরবঙ্গ চিনি কলসহ আরও বেশ কিছু কারখানা।

* **ভারী শিল্প:**

চট্টগ্রাম স্টিল মিলস এবং ড্রাই ডক।

## তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব

ইপিআইডিসি কেন আমাদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তার কয়েকটি কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:

### ১. কর্মসংস্থান তৈরি

এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার আগে মানুষ কেবল কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। বড় বড় কল-কারখানা হওয়ার ফলে হাজার হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

### ২. নিজস্ব সম্পদের ব্যবহার

আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে পাট, আখ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ছিল। ইপিআইডিসি-র মাধ্যমে এই কাঁচামালগুলো ব্যবহার করে দেশেই পণ্য তৈরি শুরু হয়। বিশেষ করে পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো।

### ৩. মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান

শিল্পায়নের ফলে দেশে একদল দক্ষ প্রকৌশলী, কর্মকর্তা এবং শ্রমিকের সৃষ্টি হয়। এটি সমাজে একটি নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল, যারা পরবর্তীতে দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে।

### ৪. আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার এই ইপিআইডিসি-র অবকাঠামো ও কারখানাগুলোকেই উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। আজকের বাংলাদেশে যে বস্ত্র বা রাসায়নিক শিল্পের প্রসার আমরা দেখি, তার মূল ভিত্তি কিন্তু সেই ষাটের দশকেই স্থাপিত হয়েছিল।

## উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে রাজনৈতিক নানা বিতর্ক থাকলেও, ইপিআইডিসি-র মাধ্যমে যে শিল্পায়নের সূচনা হয়েছিল তা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। এটি কেবল কল-কারখানা তৈরি করেনি, বরং একটি পিছিয়ে পড়া কৃষিভিত্তিক সমাজকে আধুনিক ও শিল্পনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইপিআইডিসি-র অবদান অনস্বীকার্য ।

“লিখেছেন:

মোহাম্মদ ইমরান চৌধুরী, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। লেখক চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ভিত্তিক একজন ফ্রিল্যান্স লেখক। তাঁর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম: ই-মেইল: imranchowdhury602@gmail.com, মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০১৮১৮৬৬৯০৬৫”


More News Of This Category