বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
Headline :
গাবতলী সোনাকানিয়া হিজাবুন নূর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে সাবেক এমপি লালু। ভোগনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি। দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ নিউক্যাসেল শাখা ইউকের ২১ সদস‍্য কমিটি গঠন রাজবাড়ীতে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অপহৃতকে উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৫। ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। সৃষ্টির স্পন্দনে ঐশী মমতা, ইসলামে প্রাণিকুলের অধিকার ও শাশ্বত দায়বদ্ধতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাস্তহারা দলের রূপনগর থানা আহবায়ক কমিটির সম্মেলন। মোবাইল_কোর্ট পরিচালনা করে ইয়াবা সেবনকারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড। গাবতলীতে জুয়া ও মাদক,ওয়ারেন্ট তামিল অভিযান পরিচালনা করে সাজা প্রাপ্তসহ১০ আসামীগ্রেফতার দিনাজপুর বীরগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে অবৈধ ড্রেজার আটক, মামলা দায়েরের নির্দেশ।

পূর্বতন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত **ইপিআইডিসি

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

(EPIDC)** বা ‘পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা’ নিয়ে একটি সহজবোধ্য নিবন্ধ নিচে দেওয়া হলো:

## ইপিআইডিসি (EPIDC):

বাংলাদেশের শিল্পায়নের ভিত্তিপ্রস্তর
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে **ইপিআইডিসি**-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬২ সালে যখন তৎকালীন পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (PIDC)-কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, তখন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য তৈরি করা হয় ‘ইপিআইডিসি’। মূলত কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলকে শিল্পের দিকে ধাবিত করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য।

## ইপিআইডিসি-র অধীনে গড়ে ওঠা প্রধান শিল্পসমূহ

ইপিআইডিসি-র হাত ধরেই তৎকালীন সময়ে এ দেশে বড় বড় কল-কারখানা গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

* **পাট শিল্প:**

আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ), যা একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল ছিল।

* **কাগজ শিল্প:**

রাঙামাটির কর্ণফুলী পেপার মিলস।

* **সার শিল্প:**

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রাকৃতিক গ্যাস সার কারখানা (সিলেট), যা ছিল এ অঞ্চলের প্রথম সার কারখানা।

* **চিনি শিল্প:**

জিল বাংলা এবং উত্তরবঙ্গ চিনি কলসহ আরও বেশ কিছু কারখানা।

* **ভারী শিল্প:**

চট্টগ্রাম স্টিল মিলস এবং ড্রাই ডক।

## তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব

ইপিআইডিসি কেন আমাদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তার কয়েকটি কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:

### ১. কর্মসংস্থান তৈরি

এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার আগে মানুষ কেবল কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। বড় বড় কল-কারখানা হওয়ার ফলে হাজার হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

### ২. নিজস্ব সম্পদের ব্যবহার

আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে পাট, আখ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ছিল। ইপিআইডিসি-র মাধ্যমে এই কাঁচামালগুলো ব্যবহার করে দেশেই পণ্য তৈরি শুরু হয়। বিশেষ করে পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো।

### ৩. মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান

শিল্পায়নের ফলে দেশে একদল দক্ষ প্রকৌশলী, কর্মকর্তা এবং শ্রমিকের সৃষ্টি হয়। এটি সমাজে একটি নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল, যারা পরবর্তীতে দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে।

### ৪. আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার এই ইপিআইডিসি-র অবকাঠামো ও কারখানাগুলোকেই উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। আজকের বাংলাদেশে যে বস্ত্র বা রাসায়নিক শিল্পের প্রসার আমরা দেখি, তার মূল ভিত্তি কিন্তু সেই ষাটের দশকেই স্থাপিত হয়েছিল।

## উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে রাজনৈতিক নানা বিতর্ক থাকলেও, ইপিআইডিসি-র মাধ্যমে যে শিল্পায়নের সূচনা হয়েছিল তা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। এটি কেবল কল-কারখানা তৈরি করেনি, বরং একটি পিছিয়ে পড়া কৃষিভিত্তিক সমাজকে আধুনিক ও শিল্পনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইপিআইডিসি-র অবদান অনস্বীকার্য ।

“লিখেছেন:

মোহাম্মদ ইমরান চৌধুরী, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। লেখক চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ভিত্তিক একজন ফ্রিল্যান্স লেখক। তাঁর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম: ই-মেইল: imranchowdhury602@gmail.com, মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০১৮১৮৬৬৯০৬৫”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category