তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলণ হচ্ছে বালু
ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযানে ড্রেজার মেশিন জব্দ l
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রওশন বাবু 01725192424
লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে উত্তোলণ করা হচ্ছে বালু। এতে ভাঙন হুমকিতে পড়েছে নদীর তীর, ফসলি জমি, বসতভিটা ও স্থাপনা। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকায় তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলণের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। জব্দ করা হয় ড্রেজার মেশিন ও পাইপ। ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা হয় পাইপগুলো। থানায় আনা হয়েছে ড্রেজার মেশিন।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ খান এবং মামুনুর রশিদ।
ভোটমারী এলাকার কৃষক নজর আলী (৬০) বলেন, প্রায় ২মাস ধরে তিস্তা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করছিলো একটি চক্র। দিন-রাত সারাক্ষণ নদী থেকে বালু উত্তোলণ করা হয়েছিল। অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের কারনে তিস্তা নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারনে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে আবাদি জমি। ভাঙন হুমকিতে পড়েছে অনেকগুলো বসতভিটা। ’ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে। আপাতত বালু উত্তোলণ বন্ধ রয়েছে। হয়তো কয়েকদিন পর আবারো বালু উত্তোলণ শুরু করতে পারে,’ তিনি বলেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর গ্রামের কৃষক জহির আলী (৫৫) জানান, তিস্তা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। দিনের বেলা ড্রেজার মেশিন সরিয়ে রাখলেও রাতভর মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলণ করা হয়। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের কারনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হতে। এ কারনে নদীপাড়ে ভাঙন দেখা দেয়।
তিনি বলেন, বালু উত্তোলণের গর্তের পড়ে এলাকার দুই ভাই পানিতে ডুবে মারা গেছে দুই মাস আগে। দুই ভাই মেধাবী ছিলো। তারা দুজনই লালমনিরহাট ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলো। ‘তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলণ বন্ধ না হলে নদীভাঙনও কমবে না,’ তিনি বলেন।
হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না গ্রামের কৃষক মোকছেদ আলী (৪৮) বলেন, কিছুদিন আগে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ জব্ত করে ধ্বংস করেছিলো। চক্রটি পুনরায় নদী থেকে বালু উত্তোলণ শুরু করেছে। টক্রটির সদস্যরা রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তারা দুষ্ট প্রকৃতির হওয়ায় এলাকায় প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস কেউ পায় না। ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের কারনে আমাদের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনের কারনে অনেকে আবাদি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে,’ তিনি বলেন।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, নতীর তীর থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে বালু উত্তোলণ করা হলে সেটি ক্ষতি করবে না। কিন্তু তীর থেকে ২০-৩০ মিটার দুরত্বে বালু উত্তোলণ করলে তা ভাঙন সৃষ্টি করে। তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলণ ব্যবসায় পরিনত করেছে কিছু লোক। ‘বালু উত্তোলণের কারনে নদী তীরের কাছাকাছি বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এসব গর্তে পানিপ্রবাহ ঘুর্ণি তৈরি করে সরাসরি নদীতীরে আঘাত হানে আর এতে দেখা দেয় ভাঙন,’ তিনি বলেন।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধান জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠার অবস্থানে রয়েছে। যেখানে খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ‘ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন ব্যক্তিকে পাওয়া যায় না এ কারনে মামলা করা যাচ্ছে না। বালু উত্তোলণের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করে ধ্বংস করা হচ্ছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধে স্থানীয়দের সচতেনতা বাড়ানো হচ্ছে,’ তিনি বলেন।