বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline :
ঢাকায় হত্যা, কার্টনে ভরে লাশ নীলফামারীতে নিয়ে মাটিচাপা লালমনিরহাটে আমেনা হত্যা ও এসিড নিক্ষেপের বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে লায়ন্স ক্লাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পাদকীয় কলাম সরকারের স্থায়িত্ব টিকে থাকবে কি করলে সাংবাদিকতার বিপরীতে কি কি করা হয়?* ময়মনসিংহে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত০১ জন গ্রেফতার ০১ কুড়িগ্রামে ডিলারশিপ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সারের সাইনবোর্ড, স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় আসামি জয় চিরঞ্জিত সরকার (৩২)’কে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১০।* নাসিরনগরের এমপি *এম এ হান্নান* হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর – ২৪৩ আসন) এর বর্তমান সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, সরাইল উপজেলা

ঢাকায় হত্যা, কার্টনে ভরে লাশ নীলফামারীতে নিয়ে মাটিচাপা

Update : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকায় হত্যা, কার্টনে ভরে লাশ নীলফামারীতে নিয়ে মাটিচাপা

আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
ঢাকার শুক্রাবাদে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যার পর মরদেহ কার্টনে প্যাকেট করে নীলফামারীতে নিয়ে এসে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনা আড়াল করতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণও আদায় করে ঘাতক।

​সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রাম থেকে ওই কিশোরের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ঢাকায় রাকিবের সঙ্গে ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মামুনের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ওই বিরোধের জের ধরেই মামুন পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করেন।

​মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের পর তা বড় একটি কার্টনে মুড়িয়ে ডিমলায় নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন অভিযুক্ত মামুন। সেখানে নিজ বাড়িতে মরদেহটি মাটিচাপা দিয়ে তিনি পুনরায় ঢাকায় ফিরে যান।

​হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর চতুরতার আশ্রয় নেন মামুন। রাকিবের পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে একটি কৃত্রিম ভিডিও তৈরি করেন। ওই ভিডিওর মাধ্যমে রাকিব বেঁচে আছে বলে পরিবারকে বিশ্বাস করান এবং মুক্তিপণ দাবি করেন। সন্তানের জীবনের কথা ভেবে রাকিবের পরিবার কিছু টাকা পরিশোধও করে। তবে টাকা নেওয়ার পরও রাকিবকে ফেরত না দেওয়ায় স্বজনদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় স্বজনেরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​অভিযোগ পেয়ে ঘটনাটির ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্বীকার করেন যে, তিনি রাকিবকে হত্যা করে মরদেহ ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের একটি টিম ডিমলায় পৌঁছে মামুনের দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, মামুন কিশোর রাকিবকে হত্যার পর গুম করার উদ্দেশ্যে কার্টনে মুড়িয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে এনে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডিমলশে এসে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


More News Of This Category