সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
লিচু দেওয়ার প্রলোভনে শিশুকে ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, বখাটে যুবক গ্রেফতার। যেসব কারণে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের মান-মর্যাদা। রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে মিঠাপুকুরে ৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ০১ (এক) জন মাদক কারবারি আটক রুবিওর দিল্লি সফরে ট্রাম্পের ফোন: ‘ভারত যা চায় তাই পাবে’ — বাংলাদেশ ইস্যুতে কী বোঝাপড়া? মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও দালিলিক প্রমান। প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের শোক প্রকাশ জিয়ার হ্যাঁ/না ভোটরঙ্গ : ভোটারদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভারতে চামড়া পাচার রোধে হিলি সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার। আমতলীতে ৬৯৯ পরিবারের মাঝে ইসলামিক রিলিফের কুরবানির মাংস বিতরণ।

টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল নিহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

টেকনাফ প্রতিনিধি: কামরুল ইসলাম
Update : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

টেকনাফের মুচনী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শীর্ষ ডাকাত নুর কামাল নিহতের ঘটনায় স্থানীয় নিরীহ লোকজনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে টেকনাফের লেদা নুর আলী পাড়া বাজার এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আব্দুল খালেক ও আব্দুর রহমানের মা ফাতেমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘটনার দিন তার দুই ছেলে এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না। আব্দুল খালেক চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন এবং আব্দুর রহমান একটি ইটভাটায় কর্মরত ছিলেন। অথচ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় নুর আলীর ছেলে হোছন ও তার সহযোগীরা যোগসাজশ করে তার ছেলেদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর আগেও তার ছোট ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলেদের রেহাই দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় আব্দুর রহমানের স্ত্রী কহিনুর ও আব্দুল খালেকের স্ত্রী নুর ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় হোছনের কারণে তাদের স্বামীরা একের পর এক মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন। তারা রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে ডাকাত নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলা থেকে তাদের স্বামীদের বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে হাশেম উল্লাহর মা রেহেনা বেগম এবং নুর হাসানের মা তৈয়বা বেগমও তাদের সন্তানদের নির্দোষ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি জিয়াউর রহমান নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দুই বছর আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। এর আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আড়াই বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই তাকে এই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমানের স্ত্রী নুর বেগম বলেন, নিহত ডাকাত নুর কামাল ক্যাম্পে একজন ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিল। সে ক্যাম্পে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করত এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালাত। তিনি নিজেও নুর কামালের হাতে অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

আব্দুল খালেক দাবি করেন, রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে ডাকাতদের অভ্যন্তরীণ গোলাগুলিতেই নুর কামাল নিহত হয়েছে। অথচ স্থানীয় আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী হোছন ও অস্ত্র ব্যবসায়ী মুখতার অর্থের বিনিময়ে নিরীহ লোকজনকে হত্যা মামলায় জড়িয়েছে।

দক্ষিণ লেদা বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব ও ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাশেম বলেন, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের জড়ানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ষড়যন্ত্রমূলক মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

ব্রিক ফিল্ডের ম্যানেজার আবুল আসাদ বলেন, নিহত নুর কামাল কখনোই ইটভাটায় শ্রমিক কিংবা কোনো পদে কর্মরত ছিলেন না। যে ভাড়া বাসার কথা বলা হচ্ছে সেটি ইটভাটার মালিক নুরুল কবিরের এবং সেখানে নুর কামাল কখনো বসবাস করেননি বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি মুচনী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডাকাত দলের গোলাগুলিতে শীর্ষ ডাকাত নুর কামাল নিহত হন। ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৩ জানুয়ারি নিহতের মা হামিদা বেগম বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয়দেরসহ ১০ জনকে নামীয় ও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হাকিমকে।


More News Of This Category