—
*
মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ধৈর্যের অভাব। আমরা মহান আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলতে পারি না। হালাল পথে সময় লাগে, কষ্ট আছে। তাই অনেকে শর্টকাট খোঁজে। আল্লাহ তাআলা বলেন: *“মানুষ বড়ই তাড়াহুড়া প্রবণ”* [সূরা বনি ইসরাইল, ১৭:১১]।
ধৈর্য হারালে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের নীতি ও নৈতিকতা ভুলে যায়। তখন সে নিজেই প্রতারণা করে, আবার অন্যের প্রতারণাকেও সমর্থন দেয়। কিছু পাওয়ার লোভে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। অথচ মুখে মুখে বড় বড় নীতিকথা বলে বেড়ায়।
এরা ভুলে যায়, এই সাময়িক লাভ চিরস্থায়ী নয়। মিথ্যা ও মুনাফেকির পরিণতি ধ্বংস। আল্লাহ বলেন: *“তারা চক্রান্ত করে, আল্লাহও কৌশল করেন। আর আল্লাহই সর্বোত্তম কৌশলী”* [সূরা আনফাল, ৮:৩০]।
*আগের দিন আর এখনকার দিন*
আগের যুগে মানুষ ওস্তাদ মানত, গুরুজনকে সম্মান করত, তাদের দেখানো পথে চলার চেষ্টা করত। এখন সময় বদলেছে। এখন শুধু মুখে নীতি কথা। কাজে ঠিক তার উল্টো। মিথ্যা পথে চলে অন্যের ক্ষতি করে নিজেকে খুব বুদ্ধিমান ভাবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, *“মুনাফিকের আলামত তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানত রাখলে খেয়ানত করে”* [বুখারি]। এদের মুখে মিষ্টি, কাজে বিষ। এরা নিজেকেও ধোঁকা দেয়, সমাজকেও ধ্বংস করে।
আরও ভয়ংকর হলো, এরা ভাবে তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারবে না। অহংকারে অন্ধ হয়ে যায়। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, জালিমের পতন অনিবার্য।
*বেঈমানি ও খেয়ানতের ভয়াবহ রূপ*
এই মিথ্যাবাদী, মুনাফিক, বেঈমান লোকেরা নিজের জীবনকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। কারো সম্পদ লুট করে। কেউ বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিলে আমানতের খেয়ানত করে পালিয়ে যায়।
সবচেয়ে অবাক লাগে, এই সমাজের মানুষ জেনে বুঝেও এসব প্রকাশ্য চোর-বাটপারের সাথে কীভাবে যুক্ত হয়। কীভাবে সম্পর্ক রাখে। এত নির্লজ্জ মানুষ হতে পারে, ভাবতেও কষ্ট হয়।
কুরআনের নির্দেশ স্পষ্ট: *“তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না”* [সূরা মায়িদা, ৫:২]। যে জেনে-বুঝে অন্যায়কারীকে সমর্থন দেয়, সেও গুনাহের ভাগীদার।
*শেষ কথা ও করণীয়*
এই ধরনের লোক থেকে বেঁচে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। নূহ (আ.) এর ছেলেও নবীর সন্তান হয়েও অন্যায়ের পথে থাকায় ডুবে মরেছে। তাই সম্পর্ক যত আপনই হোক, অন্যায়ের সাথে আপস করা যাবে না।
নিজের নীতি, নৈতিকতা ও চরিত্র ঠিক রেখে চলতে হবে। কারণ মহান আল্লাহর দরবারে পরকালে একদিন কঠিন জবাব দিতে হবে। সেদিন মুখ বন্ধ থাকবে, হাত-পা সাক্ষ্য দেবে [সূরা ইয়াসিন, ৩৬:৬৫]।
মনে রাখতে হবে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য: *“যে তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করে না”* [সূরা তালাক, ৬৫:২-৩]।
তাই হতাশ হওয়া যাবে না। *“তুমি দুঃখ করো না, নিরাশ হইও না। যদি তুমি মুমিন হও, তবে তুমিই বিজয়ী হবে”* [সূরা আলে ইমরান, ৩:১৩৯]।
—