রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
Headline :
মিঠাপুকুরে শিববাজার মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: অবশেষে নতিস্বীকার চেয়ারম্যানের ​নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ​রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব মুরাদপুর রাজ্জাকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট ​দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মূল্যবান সম্পদ ও গাছ একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে আজ মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের হক আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ​চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও আপস ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন: ​মাদ্রাসার যে প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ​বিক্রয়কৃত বা লভ্যাংশের প্রায় ৫৫% ভাগ সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাবে। ​শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ​ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ​এই সম্পদ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তাদের পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বড় ধরনের অনিয়মের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ​শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা: অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ​বিক্ষোভ চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ও দুঃখজনক বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ কুদ্দুস সরকারকে পাশে পাওয়া যায়নি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​তবে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ​উপসংহার ​শিক্ষার্থীদের এই জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তবে চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। গ্রামে থাকতে পারেননি ১৭ বছর নির্যাতিত বিএনপি নেতা মোঃ গোলাম ফারুক তানভীর জীবন গড়তে চান চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ‘মডেল’ ৬নং সুইয়ার ইউনিয়ন। কুড়িগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে ২ মণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। রংপুরে নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ: লালমনিরহাটে মানববন্ধন ও ৩ দিনের আলটিমেটাম ‎ চিত্রা নদীতে হারিয়ে যাওয়া ফরহাদের লাশ উদ্ধার। স্বাধীনতা নাকি অনুমতির শৃঙ্খল। ​সোনামসজিদ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির বড় সাফল্য ভারতীয় ট্রাকসহ প্রায় ৬ হাজার বোতল মাদক সিরাপ জব্দ। শ্রীবরদীতে বিলের পাড় থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

রূপগঞ্জে আইফোন ক্রয়ে অপহরণ ধর্ষণের নাটক , দুই সহপাঠী আটক

মো: রাসেল মোল্লা, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  / ৫৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

মো: রাসেল মোল্লা, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের একাদশ শ্রেণির(বিএম) ছাত্রী মাহিয়া আক্তার(১৮) আইফোন কেনার জন্য সে নিজেই তার অপহরণ ও গণধর্ষণের নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২৪জুলাই বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ থানায় আয়োজিত ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাহিয়া আক্তারের দুই সহপাঠী প্রতারক সিফাত মিয়া(১৯) ও সিনথিয়া আক্তারকে(১৮) আটক করেছে পুলিশ।

মাহিয়া আক্তার উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালী গ্রামের মাহবুব আলমের মেয়ে। সিফাত মিয়া ও সিনথিয়া আক্তারের বাড়ি ভুলতা ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ শ্রীবরদী এম এ খালেক ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জ থানা ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ জুলাই বুধবার সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মাহিয়া আক্তার ১লাখ টাকা মুক্তিপনের জন্য অপহরণ ও গণধর্ষণের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় মাহিয়া আক্তারের মা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ মাহিয়া আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

পুলিশ জানায়, মাহিয়া আক্তার আইফোন কেনার জন্য গত কয়েকদিন ধরেই তার বাবা-মায়ের কাছে দাবি করে আসছিলো। বাবা-মা আইফোন ক্রয় করে দিতে অপরগতা প্রকাশ করে। পরে মাহিয়া আক্তার তার সহপাঠী সিফাত মিয়া ও সিনথিয়া আক্তারের সঙ্গে পরিকল্পনা শেষে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের ছক করে। সে অনুযায়ী গত ২২জুলাই মঙ্গলবার সকালে কলেজে যাওয়ার কথা বলে মাহিয়া আক্তার বাসা থেকে বের হয়।

দুপুরের দিকে তার সহপাঠী সিফাত মিয়া মুক্তিপণের এক লাখ টাকা দাবিতে মাহিয়া আক্তারের মাকে ফোন করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে মেয়েকে গণধর্ষণ করা হবে বলে তার মাকে হুমকি দেয়।

আরও পড়ুনঃ মহাদেবপুরে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবীতে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

এদিকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে মাহিয়া আক্তার তার সহপাঠী সিনথিয়াদের বাড়িতে গত ২২জুলাই মঙ্গলবার রাত্রিযাপন করে। গত ২৩জুলাই বুধবার সারাদিনেও বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা না পেয়ে ঘুমের ঔষধ সেবন করে মাহিয়া আক্তার মুড়াপাড়া কলেজের পেছনে গিয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

এসময় দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় মাহিয়া আক্তারকে নির্যাতন করে মুড়াপাড়া কলেজের পেছনে ফেলে রাখা হয়েছে বলে সিফাত মিয়া সহপাঠী মাহিয়া আক্তারের বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দেয়। পরে পুলিশ মাহিয়া আক্তারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। মাহিয়া আক্তার এখন বিপদমুক্ত।

রূপগঞ্জ থানা ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম আরো বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আটককৃত সিফাত মিয়া ও সিনথিয়া আক্তারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

মিঠাপুকুরে শিববাজার মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: অবশেষে নতিস্বীকার চেয়ারম্যানের ​নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ​রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব মুরাদপুর রাজ্জাকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট ​দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মূল্যবান সম্পদ ও গাছ একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে আজ মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের হক আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ​চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও আপস ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন: ​মাদ্রাসার যে প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ​বিক্রয়কৃত বা লভ্যাংশের প্রায় ৫৫% ভাগ সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাবে। ​শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ​ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ​এই সম্পদ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তাদের পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বড় ধরনের অনিয়মের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ​শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা: অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ​বিক্ষোভ চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ও দুঃখজনক বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ কুদ্দুস সরকারকে পাশে পাওয়া যায়নি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​তবে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ​উপসংহার ​শিক্ষার্থীদের এই জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তবে চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।