শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
Headline :
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় ইন্টারনেট সংযোগ নামে অনিয়ম স্টাফ রিপোর্টার, তিস্তা ব্যারাজ ও ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনে আজ লালমনিরহাট যাচ্ছেন ৩ মন্ত্রী আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ভাসল চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের টানা ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। ১৯ জুন(শুক্রবার) সকালে হওয়া এ বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ছুটির দিনেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী পেশাজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। অল্প সময়ের এ বর্ষণেই চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক দ্রুত পানির নিচে চলে যায়। সড়কে পানি জমে থাকায় অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ে। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা জলাবদ্ধতার সমস্যা ভোগ করছেন। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। রিকশাচালক রাসেল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাইম বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় যানবাহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু পরিবহনচালক অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার জন্য আলোচিত প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি জমতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালে চলমান উন্নয়নকাজের ফলে ওই এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় সামগ্রিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণের কারণেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনর্খনন ও সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা। কাবা শরিফের গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম, বাংলাদেশের অনন্য গৌরব এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম: ট্রেনেকাটা পড়ে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ প্রেরণ প্রসঙ্গে। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্ট। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ গাইবান্ধায় গার্লস গাইড ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত, জাতীয় ফল মেলায় অংশ নিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ আদিতমারীতে সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১০, কারাগারে প্রেরণ লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃমোঃসেলিম মিয়া গাইবান্ধার খোলাহাটীতে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।। তথ্য চাইতেই ক্ষিপ্ত সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড, সাংবাদিকের বুম-ক্যামেরা ধাক্কিয়ে অফিস ত্যাগ

কাবা শরিফের গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম, বাংলাদেশের অনন্য গৌরব এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

কাবা শরিফের গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম, বাংলাদেশের অনন্য গৌরব

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

★ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মক্কা: গৌরবের এক অনন্য যাত্রায় পবিত্র কাবার গিলাফে ক্যালিওগ্রাফের সোনালী ছোঁয়া চট্টগ্রামের মোখতারের হাতের।
পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফ বা ‘কিসওয়া’ বিশ্ব মুসলিমের কাছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক। প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া কোটি মুসল্লি কাবা শরিফ তাওয়াফের সময় গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত পবিত্র কোরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি গভীর মুগ্ধতায় অবলোকন করেন। আর এই শিল্পকর্মের পেছনের অন্যতম প্রধান রূপকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান মুখতার আলম সিকদার।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত কিসওয়া তৈরির কারখানায় প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইসলামী ক্যালিগ্রাফি শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তাকে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি হিসেবে বিরল এক সম্মান।
জানা যায়, মুখতার আলম সিকদারের পারিবারিক শিকড় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। ছোটবেলা থেকেই শিল্পচর্চা ও আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে চারুকলা বিষয়ে স্নাতক এবং ২০০১ সালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে বিশেষায়িত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষা বিভাগে ক্যালিগ্রাফির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শিল্পকর্ম ও ক্যালিগ্রাফির দক্ষতা দ্রুতই সৌদি আরবের শিল্প ও ধর্মীয় মহলে পরিচিতি লাভ করে।
১৪২২ হিজরি সালে জেদ্দার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মদ সালেম বাজনাইদের সঙ্গে মুখতার আলমের পরিচয় হয়। তার অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি দেখে মুগ্ধ হয়ে বাজনাইদ কিসওয়া কর্তৃপক্ষের কাছে মুখতার আলমের জীবনবৃত্তান্ত ও কাজের নমুনা পাঠান। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ১৪২৩ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে (জুলাই ২০০২) কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির কারখানায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি মক্কার কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া-এ প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাবার গিলাফে ব্যবহৃত পবিত্র কোরআনের আয়াত, তাওহিদ, দোয়া ও অন্যান্য আরবি লেখার নকশা, বিন্যাস এবং ক্যালিগ্রাফিক রূপায়ণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
কাবার গিলাফ তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। প্রতি বছর প্রায় ৬৭০ কেজি প্রাকৃতিক রেশম, ১২০ কেজির বেশি স্বর্ণের সুতা এবং প্রায় ১০০ কেজি রুপার সুতা ব্যবহার করে নতুন কিসওয়া তৈরি করা হয়। গিলাফের ওপর সূচিকর্মের মাধ্যমে কোরআনের আয়াত ও ইসলামী বাণী খচিত করা হয়, যার নকশা ও ক্যালিগ্রাফি প্রস্তুতে বিশেষজ্ঞ শিল্পীদের দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে হয়।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, কাবার গিলাফের ক্যালিগ্রাফিতে অন্যতম কিংবদন্তি নাম ছিলেন আব্দুর রহিম আমিন বুখারি। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে কিসওয়ার নকশা ও ক্যালিগ্রাফির দায়িত্ব পালন করেন। তার উত্তরসূরি হিসেবে মুখতার আলম সিকদার এ ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সর্বাধিক পবিত্র স্থাপনার গিলাফে পবিত্র কোরআনের আয়াত অঙ্কনের মতো সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করে মুখতার আলম সিকদার আজ বিশ্ব মুসলিম সমাজে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার এই অসাধারণ সাফল্য শুধু চট্টগ্রামবাসীর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয় হয়ে উঠেছে।


More News Of This Category

মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ভাসল চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের টানা ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। ১৯ জুন(শুক্রবার) সকালে হওয়া এ বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ছুটির দিনেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী পেশাজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। অল্প সময়ের এ বর্ষণেই চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক দ্রুত পানির নিচে চলে যায়। সড়কে পানি জমে থাকায় অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ে। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা জলাবদ্ধতার সমস্যা ভোগ করছেন। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। রিকশাচালক রাসেল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাইম বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় যানবাহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু পরিবহনচালক অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার জন্য আলোচিত প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি জমতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালে চলমান উন্নয়নকাজের ফলে ওই এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় সামগ্রিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণের কারণেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনর্খনন ও সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।

মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ভাসল চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের টানা ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। ১৯ জুন(শুক্রবার) সকালে হওয়া এ বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ছুটির দিনেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী পেশাজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। অল্প সময়ের এ বর্ষণেই চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক দ্রুত পানির নিচে চলে যায়। সড়কে পানি জমে থাকায় অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ে। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা জলাবদ্ধতার সমস্যা ভোগ করছেন। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। রিকশাচালক রাসেল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাইম বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় যানবাহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু পরিবহনচালক অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার জন্য আলোচিত প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি জমতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালে চলমান উন্নয়নকাজের ফলে ওই এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় সামগ্রিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণের কারণেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনর্খনন ও সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।