শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
Headline :
সত্যের পক্ষে তিন দশক কলমযোদ্ধা এম বাদল খন্দকারের গল্প। ঢাবি’র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকার-এর ইন্তেকাল,,,,, জাতীয় দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার,,, নবী প্রেমের নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টিকারী শহীদ আলিমুদ্দিনের উকিল ছিল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এই ইতিহাস প্রতিটি মুসলমানের জানা দরকার।  যুদ্ধকালীন মুনাফেকি ও দেশবিরোধী তৎপরতা: ব্রজেন্দ্র স্যার—পাইলট স্কুলের এক কিংবদন্তির নাম,,,, মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক স্টাফ রিপোটার দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার, মোহনগঞ্জে রাতের আঁধারে ‘সরকারি চাল পাচারচেষ্টা’, জব্দ মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক ০৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ০২ সরাইলের একমাত্র সরকারি মাধ্যমিকে ১৭ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৬/৭ জনে চলছে পাঠদান সরাইলের মলাইশে মানব কল্যাণ যুব সংঘের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়, সরাইলের মলাইশে মানব কল্যাণ যুব সংঘের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়,

ব্রজেন্দ্র স্যার—পাইলট স্কুলের এক কিংবদন্তির নাম,,,, মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক স্টাফ রিপোটার দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার,

Update : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্রজেন্দ্র স্যার—পাইলট স্কুলের এক কিংবদন্তির নাম,,,,
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক স্টাফ রিপোটার দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার,
মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস শুধু ইট-পাথরের একটি পুরোনো ভবনের ইতিহাস নয়। এই স্কুলের ইতিহাস জড়িয়ে আছে অসংখ্য শিক্ষক, ছাত্র আর তাঁদের ফেলে যাওয়া হাজারো গল্পের সঙ্গে।

সত্তর থেকে নব্বইয়ের দশকের সেই সময়টায় পাইলট স্কুলের যে কজন শিক্ষককে ঘিরে ছাত্রদের মনে একসঙ্গে ভয়, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা কাজ করত, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন—
ব্রজেন্দ্র স্যার।

একজন বিজ্ঞান শিক্ষক।
পরনে ধুতি আর পাঞ্জাবি। বাড়ি বড়তলী। হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল আত্মমর্যাদা, কথাবার্তায় গাম্ভীর্য, আর ব্যক্তিত্বে এমন এক আভিজাত্য—তাঁকে দূর থেকে দেখলেই ছাত্ররা একটু সোজা হয়ে যেত!
বিশেষ করে সায়েন্সের ছাত্ররা তো তাঁকে বেশ ভালোভাবেই চিনত।
তবে শুধু সায়েন্সের ছাত্ররাই নয়, অন্য বিভাগের ছাত্ররাও স্যারকে দেখলে একটু সাবধানে চলত।
এমনকি মজা করে তখন বলা হতো—
“ব্রজেন্দ্র স্যারের ক্লাসে ছাত্ররা জোরে শ্বাস নেয় কি না, সন্দেহ!”
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই ভয়টার পেছনে স্যারের কোনো অকারণ নিষ্ঠুরতা ছিল না।
তিনি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে আঘাত করতেন না। অহেতুক শাস্তি দেওয়ার মানুষও ছিলেন না। আসলে তাঁর ব্যক্তিত্বটাই ছিল এতটা গম্ভীর, যে ছাত্ররা নিজেরাই তাঁকে এড়িয়ে চলত।
স্যার অহংকারী ছিলেন না—বরং সহকর্মী শিক্ষকদের সঙ্গে ছিলেন বেশ সদালাপী।
আমাদের হেড স্যার কুতুব উদ্দিন ছিলেন তাঁর জুনিয়র। কিন্তু ব্রজেন্দ্র স্যার তাঁর পদমর্যাদাকে যথেষ্ট সম্মান করতেন। আবার কুতুব উদ্দিন স্যারও তাঁকে যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে ডাকতেন—
“ব্রজেন্দ্র বাবু।”
তখনকার শিক্ষক সমাজে এই পারস্পরিক সম্মান দেখাটাও ছিল এক ধরনের শিক্ষা।

ব্রজেন্দ্র স্যারের একটা মজার অভ্যাস ছিল—তিনি তামাক পাতা আর চুন মিশিয়ে ছুর্তি, অর্থাৎ খৈনি খেতেন।
রেলস্টেশনের পেছনে একটি চায়ের দোকান ছিল। স্যার সেখানে বসে চা খাচ্ছেন—এই দৃশ্য ছাত্রদের কাছে মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিল না!
কোনো ছাত্র যদি দূর থেকে দেখত—
ব্রজেন্দ্র স্যার!
ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা বদল।
এক গলি দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, অন্য গলি দিয়ে যাওয়া শুরু!
কারণ স্যারের চোখে পড়ে গেলে ডাক আসতেই পারে—
“এই, এদিকে আয়!”
তারপর সেই চিরচেনা নির্দেশ, তামাক নিয়ে আয়।
স্যারের তামাক পাতারও ছিল নির্দিষ্ট দোকান—হবি মিঞার দোকান।
সেখান থেকেই তামাক পাতা আনতে হবে।
পাতা ভালো হয়নি?
আবার যাও।
বদলে নিয়ে আসো।
সেটাও পছন্দ হলো না?
আবার যাও!
দুই-তিনবারও যেতে হতে পারে।
তখন মনে হতো, বিজ্ঞান পড়ার চেয়ে স্যারের তামাক পাতার মান নিয়ন্ত্রণ করাটাই যেন বেশি কঠিন!
আজ এসব মনে পড়লে হাসি পায়।
কিন্তু তখন?
তখন স্যারের সামনে দাঁড়ানোই ছিল বড় ব্যাপার!
শিক্ষকদের আড্ডা আর দশ সন্তানের হিসাব
সেই সময়ের শিক্ষকরা যখন একসঙ্গে বসতেন, তখন পরিবেশটাই বদলে যেত।
গম্ভীর শিক্ষকরা গল্পে মেতে উঠতেন। হাসি-ঠাট্টা চলত। তাঁদের সেই আড্ডা ছিল একেবারে গল্পের হাট।
একদিন এমনই এক আড্ডায় আমি কোনো একটা কাজে দোকানে এসেছিলাম। হঠাৎ শুনলাম একজন স্যার ব্রজেন্দ্র স্যারকে জিজ্ঞেস করছেন—
—“আপনার এতগুলো ছেলেমেয়ে! সবগুলোর হিসাব কীভাবে রাখেন? কে বাড়িতে ফিরল, কে ফিরল না—কীভাবে বুঝবেন?”
ব্রজেন্দ্র স্যার খুব স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিলেন—
“রাতে শোয়ার আগে বালিশগুলো গুনে নিই। তখন বুঝি কে এসেছে আর কে আসেনি।”
কথাটা শুনে আমি তো অবাক!
পরে জানলাম, স্যারের সাত ছেলে আর তিন মেয়ে—মোট দশ সন্তান।
দশ সন্তানের সংসারে হিসাব রাখার এমন অভিনব পদ্ধতি—আজও মনে পড়লে হাসি পায়।
বড়তলী থেকে পাইলট স্কুল—পায়ে হেঁটে
ব্রজেন্দ্র স্যারের জীবনের আরেকটি বিষয় ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।
প্রতিদিন বড়তলী থেকে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আসতেন হেঁটে।
স্কুল শেষে বাজারে যেতেন।
তারপর বাজার থেকে আবার হেঁটে বড়তলীর বাড়িতে ফিরতেন।

রিকশা?
স্যার যেন রিকশাকে চিনতেনই না!
ভুলেও রিকশায় চড়তেন না।
সেই সময়ের জীবনযাপনই ছিল এমন। হাঁটা ছিল স্বাভাবিক। প্রয়োজন ছিল কম, জীবন ছিল অনেকটা নিয়মে বাঁধা।
ধুতি-পাঞ্জাবি পরা সেই গম্ভীর মানুষটি প্রতিদিন হেঁটে হেঁটে স্কুলে আসছেন—এই দৃশ্যটা যেন আজও চোখের সামনে ভাসে।

ভয় থেকে শ্রদ্ধা, শ্রদ্ধা থেকে স্মৃতি
সত্তর, আশি, নব্বইয়ের দশকে ব্রজেন্দ্র স্যার ছিলেন পাইলট স্কুলের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় শিক্ষক।
জনপ্রিয়তা সবসময় হাসিখুশি মুখ দিয়ে আসে না।
কখনো কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা আর আত্মমর্যাদাও তাঁকে মানুষের মনে জায়গা করে দেয়।
ব্রজেন্দ্র স্যার ছিলেন তেমনই একজন।
ছাত্ররা তাঁকে ভয় পেত।
তাঁকে দেখলে অনেকে রাস্তা বদলাত।
তাঁর ক্লাসে চুপচাপ বসে থাকত।
কিন্তু আজ এত বছর পর সেই ভয়টাই যেন মধুর স্মৃতি হয়ে গেছে।

একটা সময় যাঁর ভয়ে আমরা লুকাতাম,
আজ সেই মানুষটিকেই মনে পড়ে সবচেয়ে বেশি।
কারণ—
শিক্ষকেরা শুধু ক্লাস নেন না, তাঁরা একটি সময়কে ধারণ করেন।
আর ব্রজেন্দ্র স্যার ছিলেন সেই সময়েরই একজন জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

( লিখাটা লিখতে স্যারের সরাসরি ছাত্র ছিলেন এমন এক বড় ভাইয়ের স্মৃতি চারণ নিয়ে লিখা)

ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন…


More News Of This Category