সরাইলের মলাইশে মানব কল্যাণ যুব সংঘের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়,
এম বাদল খন্দকার (বিশেষ প্রতিনিধি)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার মলাইশ গ্রামে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) সকাল ১০টায় মলাইশ গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি, দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এই পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।এ উপলক্ষে মলাইশ (বেপারী পাড়া) এলাকার ‘মানব কল্যাণ যুব সংঘ’-এর উদ্যোগে স্থানীয় স্বর্গীয় শ্রী অর্জুন চৌধুরীর বাড়িতে বিশেষ পূজা মণ্ডপ স্থাপনসহ বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। পূজাকে ঘিরে সকাল থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে ছিল ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস।পূজা আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাস্ত্রীয় রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বকর্মা দেবের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এ সময় দেবের কাছে কর্মজীবী মানুষের কল্যাণ, পেশাগত সাফল্য, নিরাপত্তা এবং দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সনাতন ধর্মমতে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা হলেন শিল্পকলা, কারিগরি শিল্প এবং সব ধরনের যন্ত্রাংশের দেবতা। ফলে বিশেষ করে বিভিন্ন কলকারখানা, কুটির শিল্প ও ব্যবসায়ী মহলে এই পূজার গুরুত্ব অপরিসীম।এই পূজাকে কেন্দ্র করে সরাইলের মলাইশ গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এক অনন্য সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উৎসবের আমেজে অংশ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং সর্বস্তরের পেশাজীবী মানুষ।স্থানীয় ভক্তরা জানান, প্রতিবছর বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে এই ধরনের মিলনমেলা ধর্মীয় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় ও মজবুত করে। পূজা ও অঞ্জলি প্রদান শেষে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভক্ত, পুণ্যার্থী ও অতিথিদের মাঝে ঐতিহ্যবাহী প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সার্বিকভাবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে এই বছরের বিশ্বকর্মা পূজার সমাপন ঘটে।