শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
লুঙ্গি ফেলে শিক্ষকের দৌড়! নেপথ্যে কী কারণ? গাইবান্ধায় বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: চালক নিহত, আহত ৫ ভ্যান হারিয়ে কাঁদা রেজওয়ানের মুখে হাসি ফুটালো সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারলে সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবে আকাশ সমান! আদিতমারীতে অবৈধ সার বিক্রির দায়ে দুইজনকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা। লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি ব্রহ্মপুত্রের বুকে দুর্গম চর ঢুষমারা স্বেচ্ছাশ্রমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছেন কলেজ শিক্ষার্থী মুক্তা ফুলের গন্ধ মাখি তাছলিমা আক্তার মুক্তা মনোহরগঞ্জের বাইশগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন উদ্যোগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষৃঠাবার্ষিকী পালিত ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি মামলা তুলে নিতে বাদী-সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।

অধ্যাপক আবদুল হাননান খান শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি এবং আন্তর্জাতিক মোঃ আরিফুল ইসলাম সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ স্টাফ রিপোটার,৷

Update : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

অধ্যাপক আবদুল হাননান খান
শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি এবং আন্তর্জাতিক
মোঃ আরিফুল ইসলাম সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ স্টাফ রিপোটার,৷
অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা
অধ্যাপক আবদুল হাননান খান ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা।

শিক্ষকতা, মুক্তিযুদ্ধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তিনি ১৯৪২ সালের ১১ নভেম্বর তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার (বর্তমান নেত্রকোণা জেলা) পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউর খানপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে ইংরেজি বিভাগে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক চেতনার পরিচয় দেন। ১৯৬৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে তিনি তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমা ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৬৫ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, নাসিরাবাদ কলেজ এবং সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে অধ্যাপনা করেন।

একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি শিক্ষকতার জীবন ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ঢালু সাব-সেক্টরে তিনি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সাহসিকতার সঙ্গে অবদান রাখেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ঐতিহাসিক জেল হত্যা মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা এবং ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০০০ সালে তিনি ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদে কর্মরত অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর-পরবর্তী সময়েও রাষ্ট্র তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে মূল্যায়ন করে। ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার তাঁকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক ও প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এ দায়িত্বে থেকে তিনি ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

বিরতিহীন বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর। কোভিড-১৯-এ মানুষের সেবা দিতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

অধ্যাপক আবদুল হাননান খান বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন দেশপ্রেমিক শিক্ষাবিদ, নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধা, সৎ ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম, ন্যায়নিষ্ঠা ও জনসেবার এক অনন্য প্রেরণার উৎস।


More News Of This Category