লুঙ্গি ফেলে শিক্ষকের দৌড়! নেপথ্যে কী কারণ?
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় জনতার ধাওয়ায় পরনের পোশাক, স্যান্ডেল ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়েছেন উত্তর রাবাইতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন নূরু (৪৯)।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মধ্য রাবাইতারী গ্রামের নেওয়াশী বাজারের পশ্চিম পাড়ায়। পরকীয়া ও অনৈতিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই সন্তানের জননী মৌসুমী আক্তারের (৩৬) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন। এর আগে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক ও প্রতিবাদ সভা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক তা উপেক্ষা করে আসছিলেন।
সবশেষ গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মৌসুমীকে তাঁর এক আত্মীয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ডেকে এনে পুনরায় অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন ওই শিক্ষক। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরটি ঘেরাও করলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন তাঁর মোবাইল ফোন, পরনের লুঙ্গি, গামছা ও স্যান্ডেল ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যান।
এ ঘটনার পরদিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বটতলা বাজারে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকেন। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
এদিকে স্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামী হাবিবুর রহমান কাজী অফিসে গিয়ে মৌসুমীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দিয়েছেন। হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে আমি একা থাকব, কিন্তু এমন চরিত্রহীন স্ত্রীকে আর ঘরে রাখা সম্ভব নয়।”
স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলী জানান, প্রধান শিক্ষককে সামাজিক সালিশে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, “ওই শিক্ষক কেবল এই নারীর সাথেই নয়, বিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ একাধিক নারীর সাথেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান নাইম জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত কোনো লিখিত অভিযোগ পুলিশ এখন পর্যন্ত পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।