ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের মহা বিজয় ছিনিয়ে আনবো-বাহাউদ্দিন নাছিম
শফিক বাবু/হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন আর হতাশা নয়, এবার সময় রুখে দাঁড়াবার। বাংলাদেশে মহা-বিজয়ের লক্ষ্যে ডিসেম্বর মাসেই চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনবো।খবর আইবিএননিউজ ।
গত শুক্রবার,১০ জুলাই ২০২৬,বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিক, কবি , সাহিত্যিক,কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সংগঠন “স্মরণে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ” এর টেলিগ্রাম গ্রুপে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন গণমাধ্যম জেগে উঠেছে, সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না।
শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ডিসেম্বরে নেত্রীর বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে দলের সকল সহযোদ্ধা, নেতাকর্মী এবং মুক্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জিও পলিটিক্সের কোন সিগন্যাল নিয়ে নয়, জনতার শক্তি নিয়েই ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, জানান বাহাউদ্দিন নাছিম।
এক প্রশ্নের জবাবে নাছিম বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামী লীগ আগামীর বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। দলের পরীক্ষীত নিবেদিত নেতাকর্মীদের দিয়েই দল গঠন করবে, হাইব্রিডদের স্থান দলে হবে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু আজ বাংলাদেশে সত্যিকারের কোনো আইন নেই তবে জনগণকে সাথে নিয়ে সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা হবে।
সাংবাদিকদের সাহসী উচ্চারণেই জাতি ঐক্যবদ্ধ হবেন জানিয়ে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, মৌলবাদীদের পরাজিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা খুবই তাৎপর্য এবং গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার প্রতিহিংসা ছড়াচ্ছে, স্থিতিশীল বাংলাদেশ নির্মাণ তাদের লক্ষ্য নয়।
বট বাহিনীর অপপ্রচারের জবাব দিবেন সাংবাদিকরা। জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাছিম বলেন, লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে গণবিস্ফোরণ সৃষ্টি করেই বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল
অসাম্প্রদায়িকতার মূলমন্ত্র নিয়ে ।আবারও আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ।
সংগঠন করতে হলে কমিটির বিকল্প নেই। এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগসহ দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হচ্ছে। কৌশলগত কারণে অনেককেই মূল্যায়ন করা হয়নি, আবার অনেককে করা হয়েছে তবে পর্যায়ক্রমে অতীতের মতো ভুল যাতে না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে বলে জানান বাহাউদ্দিন নাছিম।
তিনি বলেন, কমিটি করার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে, এর মাঝেও শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
“শেখ হাসিনার সাথেই কি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশে ফিরবেন” – এমন প্রশ্নের জবাবে নাছিম বলেন, নেত্রীর সঙ্গে নয়, আমাদের নেত্রীর আগেই দেশে ফিরে যাওয়া উচিত, আমি ও আমরা সভানেত্রীর আগেই দেশে ফিরে যেতে চাই। জনগণের শক্তিতে বলিয়ান হয়েই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ফিরবেন। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে অহিংসতা। আমরা সহিংসতায় বিশ্বাস করি না।
নাছিম বলেন, আমাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করা হলেও আমরা দেশে ফিরবো, তবে বাঙালির ঐক্যবদ্ধতাই হবে আমাদের শক্তি। হিংস্রতার রাজনীতি নয়, আঘাত এলে প্রতিরোধ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর তাঁর বক্তব্য বলেন, বাংলাদেশে শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ এখন শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় আওয়ামী লীগ এখন অনেক শক্তিশালী।
এবছরের ডিসেম্বর মাসেই জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগ ফিরবে এবং আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ।আওয়ামী লীগ আজীবন গনতন্ত্র রক্ষায় মানুষের পাশে ছিল ।
সিনিয়র সাংবাদিক সাজেদা পারভীন সাজু’র সভাপতিত্বে এবং কবি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শফিক বাবু’র সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে আলোচনা অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মানিক লাল ঘোষ, সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, আহমেদ রাসেল, জহিরুল ইসলাম, আকতার হোসেন, খন্দকার তারেক রায়হান, ওয়ারেছন্নুবি খোন্দকার, আতাহার হাওলাদার, সাজ্জাদ হোসেন, এইচএম দুলাল, ইমরান ফারুক মাসুম, ইমু চৌধুরী, শেখ শাহেদ, জালাল উদ্দিন, তৈয়ব হোসেন, ফারুক রহমান, তুলনা আফরিন, জিল্লুর রাসেল, মার্জিয়া আকতার বৈশাখী, মুন্সি দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গ্রীস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাওলাদার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টর জিএম তরিকুল ইসলাম, বাঙালি সংস্কৃতি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভুইঁয়া প্রমুখ ।অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নিহত সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান,৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতিয় চারনেতার হত্যা,১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনে নিহত,১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে নিহত,৩ লাখ মা-বোনের অসামান্য আত্মত্যাগ,২০০৪- এর ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত ,২০২৪-এর কথিত জুলাই-আগস্ট জজ্ঞী হামলায় নিহতসহ আজ পযর্ন্ত সকল গনতন্ত্রীক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয় ।