মোঃ মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার ও ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন এবং কক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রভাষক শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ১১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ৫০ জন পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুত করা বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিষয়টির সত্যতা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে নিশ্চিত হয় শিক্ষা বোর্ড।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনা চরম দায়িত্বে অবহেলার শামিল। পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক, কক্ষ পর্যবেক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এ অনিয়ম ঘটেছে। এ কারণে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রসহ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বশরীরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র এবং ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষা বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের পর ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, শিক্ষা বোর্ড দ্রুত যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনে এ ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেবে না।