মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline :
বঙ্গোপসাগরে ফিশিং বোট ডুবি: ৬ জেলে নিখোঁজ, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. নুরুল হক এমপি নিজস্ব প্রতিনিধি: মো. আনোয়ার হোসেন নবীগঞ্জে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে যাতায়াতের জন্য রিক্সা ও সুস্থার জন্য চেক প্রদান করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো প্রিয়জন গ্রুপ নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:- সাঘাটায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত: সমবায় সদস্যদের মাঝে ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ মোঃ মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগরে ফিশিং বোট ডুবি: ৬ জেলে নিখোঁজ, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. নুরুল হক এমপি নিজস্ব প্রতিনিধি: মো. আনোয়ার হোসেন সাদুল্লাপুরে রাস্তায় মাটি দেয়া নিয়ে বিরোধে বিএনপি নেতার ওপর বর্বরোচিত হামলা স্টাফ রিপোর্টারঃ চট্টগ্রাম বোর্ডে ইংরেজি প্রথম পত্রে অনুপস্থিত ২১১২ শিক্ষার্থী, বহিষ্কার ৩ সাদুল্লাপুরে রাস্তায় মাটি দেয়া নিয়ে বিরোধে বিএনপি নেতার ওপর বর্বরোচিত হামলা *তেরখাদা ইউপি নির্বাচন: ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে শেখ সোহেল তাজের প্রার্থীতা ঘোষণা* সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন নিপীড়ন হত্যা বন্ধ চায় বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম – মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে: সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবান সিভিল সার্জন

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান,  প্রতিনিধি মিশর।দৈনিক বাংলার সংবাদ। 

Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান,

প্রতিনিধি মিশর।দৈনিক বাংলার সংবাদ।

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর


More News Of This Category