কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রোজারঘোনা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কাদাময় ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে শুধুমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাদা পরিষ্কারের কাজ করায় উন্নয়ন কার্যক্রমের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় পাহাড়ি মাটি, ইট বা অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা আবারও কাদায় পরিণত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার সুফল জনগণ পাচ্ছে না। তারা প্রকল্পের ব্যয়, কাজের মান এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাদের অভিযোগ, জনগণের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তবে স্থানীয়ভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও মন্তব্য প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসী হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যদি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয়দের কঠোর বার্তা
“রোজারঘোনা এলাকার মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট ভোগ করছে। উন্নয়নের নামে দায়সারা কাজ করে জনগণের সঙ্গে প্রহসন করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা এবং জনগণের টাকায় পরিচালিত প্রকল্পের প্রতিটি হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং রোজারঘোনা সড়কের স্থায়ী ও মানসম্মত সংস্কার নিশ্চিত করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হবে।
(বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগসমূহ স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।)