রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
রূপসায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার ওমর ফারুক. লালমনিরহাটে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৮ টি যানবাহন থেকে ৮ হাজার ৯ শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ-বিপিএম মহোদয়ের পঞ্চগড় জেলা সফর: তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ, ১৯ অক্টোবর সশরীরে হাজিরার নির্দেশ। কালিয়াকৈরে ওষুধ কারখানায় আগুন, আহত ১ নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন বেসরকারী অভিনেতা এবং স্থানীয় বাজার কর্তৃপক্ষের সাথে বাজার সংযোগের উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের রৌমারী মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিক্সার চালকসহ ৫জন নিহত নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন বালিয়াকান্দিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

জিয়ার ডাকে বিদ্রোহ : স্পিকার স্মৃতিশক্তির অলৌকিক মহিমা! হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংদেশ টেলিভিশনে একটা অসাধারণ কথা বললেন।

বললেন, “জিয়ার আহ্বানে বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহ না করলে আজও পাকিস্তান থাকত।”খবর আইবিএননিউজ ।

কী ইতিহাস! কী ফ্ল্যাশব্যাক! কী ঐতিহাসিক চেতনা!

শুধু একটাই সমস্যা।

সমস্যাটা হলো, এই কথা যিনি বললেন, তিনি নিজেই জিয়ার ডাক শুনে বিদ্রোহ করেননি। শুনতেই পাননি। কারণ তিনি তখন যশোর ক্যান্টনমেন্টের বাইরে জগদীশপুর গ্রামে শীতকালীন মহড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। ২৫ মার্চে ১৯৭১ ঢাকায় কী হচ্ছে, কিচ্ছু জানতেন না। ২৯ মার্চ ক্যান্টনমেন্টে ফিরে অস্ত্র জমা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

জিয়ার ডাক? সেটা শুনলেন কবে তাহলে আসলে ?

৩১ মার্চ। মাছলিয়া বিওপিতে। একজন সাংবাদিকের কাছে।

অর্থাৎ বিদ্রোহ করলেন ৩০ মার্চ, জিয়ার ঘোষণার কথা জানলেন ৩১ মার্চ।

কার্যকারণ সম্পর্কের এই নতুন সংজ্ঞা পদার্থবিজ্ঞানে “হাফিজ তত্ত্ব” নামে পাঠ্যপুস্তকে ঢোকানো উচিত, যেখানে কারণ ঘটার আগেই ফলাফল চলে আসে!

তাহলে হাফিজ সাহেব কেন বিদ্রোহ করলেন?

করলেন কারণ পাকিস্তানি সেনারা পরদিন সকালে তাদের সাফ করে দেওয়ার সব বন্দোবস্ত করে ফেলেছিল। অধস্তন বাঙালি সৈনিকরা বললেন স্যার, মরতে হলে যুদ্ধ করেই মরি। ব্যাটেলিয়নের বাঙালি কমান্ডার লে. কর্নেল রেজাউল জলিল সাহেব বিদ্রোহে অসম্মত হলেন। তখন টু আই সি হাফিজ উদ্দিন নিজেই নেতৃত্ব নিলেন। লেফটেন্যান্ট আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে সারাদিন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যুদ্ধ করলেন। বিকেলে বের হলেন, জানলেন আনোয়ার শহীদ হয়েছেন।

এই পুরো ঘটনাটা কোথায় লেখা আছে জানেন?

এই ফাঁপড়বাজ হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নিজের রচিত “রক্তে ভেজা একাত্তর” গ্রন্থেই!

মানে, নিজের লেখা বইয়ের কথা নিজেই ভুলে গেছেন। অথবা ভোলেননি, জাস্ট টেলিভিশন ক্যামেরা দেখলে স্মৃতি একটু রিঅ্যারেঞ্জ হয়ে যায়। দলীয় প্রয়োজনে ইতিহাসও একটু রিব্র্যান্ড হয়।

বিএনপির ইতিহাসচর্চার এটাই বৈশিষ্ট্য।

জিয়াকে মহান বানাতে গিয়ে নিজের বীরত্বকেও জিয়ার পায়ে সঁপে দিতে হয়। নিজের বিদ্রোহকেও “জিয়ার আহ্বানের ফল” বলতে হয়, যদিও সেই আহ্বানের কথা জানতেই পেরেছিলেন পরের দিন, অন্যের মুখে।

এই হলো সেই দলের নেতারা, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখেন নিজের মতো করে, প্রয়োজনমতো মুছে দেন, যোগ করেন, গল্প সাজান।

শুধু ভুলে যান, লেখা থাকে। বই থাকে। সাক্ষী থাকে।

এবং কখনো কখনো সেই সাক্ষী নিজেই স্পিকারের চেয়ারে বসে মিথ্যা কথা বলেন। আর এটাই বিএনপি নামের সার্কাসটার কেরামতি!


More News Of This Category