স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংদেশ টেলিভিশনে একটা অসাধারণ কথা বললেন।
বললেন, "জিয়ার আহ্বানে বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহ না করলে আজও পাকিস্তান থাকত।"খবর আইবিএননিউজ ।
কী ইতিহাস! কী ফ্ল্যাশব্যাক! কী ঐতিহাসিক চেতনা!
শুধু একটাই সমস্যা।
সমস্যাটা হলো, এই কথা যিনি বললেন, তিনি নিজেই জিয়ার ডাক শুনে বিদ্রোহ করেননি। শুনতেই পাননি। কারণ তিনি তখন যশোর ক্যান্টনমেন্টের বাইরে জগদীশপুর গ্রামে শীতকালীন মহড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। ২৫ মার্চে ১৯৭১ ঢাকায় কী হচ্ছে, কিচ্ছু জানতেন না। ২৯ মার্চ ক্যান্টনমেন্টে ফিরে অস্ত্র জমা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
জিয়ার ডাক? সেটা শুনলেন কবে তাহলে আসলে ?
৩১ মার্চ। মাছলিয়া বিওপিতে। একজন সাংবাদিকের কাছে।
অর্থাৎ বিদ্রোহ করলেন ৩০ মার্চ, জিয়ার ঘোষণার কথা জানলেন ৩১ মার্চ।
কার্যকারণ সম্পর্কের এই নতুন সংজ্ঞা পদার্থবিজ্ঞানে "হাফিজ তত্ত্ব" নামে পাঠ্যপুস্তকে ঢোকানো উচিত, যেখানে কারণ ঘটার আগেই ফলাফল চলে আসে!
তাহলে হাফিজ সাহেব কেন বিদ্রোহ করলেন?
করলেন কারণ পাকিস্তানি সেনারা পরদিন সকালে তাদের সাফ করে দেওয়ার সব বন্দোবস্ত করে ফেলেছিল। অধস্তন বাঙালি সৈনিকরা বললেন স্যার, মরতে হলে যুদ্ধ করেই মরি। ব্যাটেলিয়নের বাঙালি কমান্ডার লে. কর্নেল রেজাউল জলিল সাহেব বিদ্রোহে অসম্মত হলেন। তখন টু আই সি হাফিজ উদ্দিন নিজেই নেতৃত্ব নিলেন। লেফটেন্যান্ট আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে সারাদিন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যুদ্ধ করলেন। বিকেলে বের হলেন, জানলেন আনোয়ার শহীদ হয়েছেন।
এই পুরো ঘটনাটা কোথায় লেখা আছে জানেন?
এই ফাঁপড়বাজ হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নিজের রচিত "রক্তে ভেজা একাত্তর" গ্রন্থেই!
মানে, নিজের লেখা বইয়ের কথা নিজেই ভুলে গেছেন। অথবা ভোলেননি, জাস্ট টেলিভিশন ক্যামেরা দেখলে স্মৃতি একটু রিঅ্যারেঞ্জ হয়ে যায়। দলীয় প্রয়োজনে ইতিহাসও একটু রিব্র্যান্ড হয়।
বিএনপির ইতিহাসচর্চার এটাই বৈশিষ্ট্য।
জিয়াকে মহান বানাতে গিয়ে নিজের বীরত্বকেও জিয়ার পায়ে সঁপে দিতে হয়। নিজের বিদ্রোহকেও "জিয়ার আহ্বানের ফল" বলতে হয়, যদিও সেই আহ্বানের কথা জানতেই পেরেছিলেন পরের দিন, অন্যের মুখে।
এই হলো সেই দলের নেতারা, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখেন নিজের মতো করে, প্রয়োজনমতো মুছে দেন, যোগ করেন, গল্প সাজান।
শুধু ভুলে যান, লেখা থাকে। বই থাকে। সাক্ষী থাকে।
এবং কখনো কখনো সেই সাক্ষী নিজেই স্পিকারের চেয়ারে বসে মিথ্যা কথা বলেন। আর এটাই বিএনপি নামের সার্কাসটার কেরামতি!
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
(01884-553490, 01911-206989)
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.