কামরুল ইসলাম ,টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, বাংলার সংবাদ।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন হ্নীলা বিওপি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অসহায় জেলে পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত, নিম্নআয়ের ও কর্মহীন পরিবারের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল জহিরুল ইসলাম। তিনি উপকারভোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করাও বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, অসহায় জেলে পরিবার এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্বের অংশ। বিজিবি সবসময় জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে ভবিষ্যতেও বিজিবির এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজিবির সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও সুসংহত করবে।”
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিম্নআয়ের জেলে পরিবারগুলোর জন্য এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির এই মানবিক কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে বিজিবি একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করছে।
মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনায় পরিচালিত এ উদ্যোগ হ্নীলা এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিজিবির এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।