বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

১৫০৮ সালে বাগদাদ দখল, সহিংসতা, মতাদর্শ ও বিতর্কিত ঐতিহাসিক বর্ণনা।

Reporter Name / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

লেখক জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

১৫০৮ খ্রিস্টাব্দে শাহ ইসমাইল সাফাবির নেতৃত্বে বাগদাদ দখল মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও একইসঙ্গে বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। সুফি তরীকাভিত্তিক একটি আধ্যাত্মিক গোষ্ঠী থেকে সাফাবি শক্তির উত্থান এবং পরবর্তীতে দ্বাদশী শিয়া মতবাদকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এই ঘটনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

বাগদাদ দখলের পরবর্তী সময় নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎসে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে। এসব বর্ণনায় সুন্নি মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ড এবং ধর্মীয় স্থাপনার ধ্বংসের অভিযোগ উঠে এসেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় আব্বাসীয় খলিফাদের স্মৃতিবাহী স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং হানাফি মাযহাবের প্রবর্তক ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মাজারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাবলি। ঐতিহাসিক গ্রন্থসমূহে দাবি করা হয়েছে যে, তাঁর কবরসংলগ্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা যা সেলজুক আমলে নির্মিত হয়েছিল ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

কিছু বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, কবরটি খুঁড়ে ফেলা হয় এবং সেখানে অত্যন্ত অবমাননাকর আচরণ করা হয় যার মধ্যে কবরের ভেতরের অবশেষ সরিয়ে ফেলা এবং স্থানে অন্য কিছু দাফনের মতো ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কবরের ওপর অপমানসূচক স্থাপনা নির্মাণের দাবিও কিছু সূত্রে পাওয়া যায়।

একইভাবে সুফি সাধক হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহ. এর মাজার সম্পর্কেও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উঠে এসেছে, যদিও এ বিষয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

এই ঘটনাগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় সাফাবি যুগের গ্রন্থ যেমন, আলাম আরায়ে সাফাবি এবং আসনাদ ও নামহা-ই দাওরা-ই সাফাবিয়া-তে। এছাড়া নূরুল্লাহ মারআশি শুশতারি রচিত মাসায়িব আল-নাওয়াসিব গ্রন্থেও এসব ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যেখানে তীব্র সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়।

তবে এসব বর্ণনা নিয়ে আধুনিক ইতিহাসবিদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতভেদ রয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট এসব লেখাকে প্রভাবিত করেছে, ফলে ঘটনাগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

১৫০৮ সালের বাগদাদ দখল ও তার পরবর্তী ঘটনাবলি তাই শুধু একটি সামরিক বিজয়ের ইতিহাস নয়, বরং এটি একটি সময়ের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তেজনার বহুমাত্রিক প্রতিফলন যা ইতিহাসে আজও আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category