✪
● অভ্যাসগত বিষয়ে মূলনীতি হলো—এগুলো বৈধ; যতক্ষণ না হারামের দলিল আসে।
(যেমন হারাম হবে যখন সে অভ্যাসটি কাফিরদের অনুসরণে করা হয়, তাদের কোনো ধর্মীয় সিম্বল হবে আর যখন কুফরী মতাদর্শের অনুসরণে করা হবে)
● ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—দলিলের ওপর নির্ভরশীল (তাওকীফী); যতক্ষণ না শরীয়ত থেকে ইবাদত হওয়ার প্রমাণ আসে।
(সুতরাং মীলাদ কিয়াম ইত্যাদি ইবাদত না)
● মানুষের ব্যাপারে মূলনীতি হলো—নির্দোষ ধরা; যতক্ষণ না দোষ প্রমাণিত হয়।
● গায়েবি বিষয়ে মূলনীতি হলো—দলিলনির্ভর থাকা; যতক্ষণ না জ্ঞানের প্রমাণ আসে।
● বস্তুর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—পবিত্রতা; যতক্ষণ না অপবিত্রতার দলিল আসে।
● ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—অন্যের পক্ষ থেকে আদায় করা যায় না (নিয়াবত নেই), যতক্ষণ না শরীআতে এর পক্ষে দলীলপাওয়া যাবে।
● নির্ধারিত সময়ে ইবাদত আদায় করলে তাকে বলা হয় “আদা (أداء)”; আর নির্ধারিত সময়ের বাইরে করলে তাকে বলা হয় “কাযা (قضاء)”। দলিল ছাড়া কাযা সাব্যস্ত হয় না।
● ওয়াজিব ও মুস্তাহাবের মধ্যে সংঘর্ষ হলে—ওয়াজিবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
● ফরযে কিফায়া ও ফরযে আইন সংঘর্ষ হলে—ফরযে আইনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
● দুটি ক্ষতির মধ্যে পড়লে—কম ক্ষতিটিই গ্রহণ করা হবে। আর যদি দুটো থেকেই বাঁচার সুযোগ থাকে তো দুটোর কোনোটাই নেওয়া যাবে না।
● যে মুস্তাহাবের সময় বিস্তৃত, আরেকটি মুস্তাহাবের সময় সীমিত হলে—সীমিত সময়েরটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই বিধান ওয়াজিবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
● মাফসাদা (ক্ষতি) প্রতিরোধ করা—মাসলাহা (উপকার) অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য; তবে যদি উপকারটি অধিক প্রাধান্যপূর্ণ হয়, তাহলে ব্যতিক্রম।
● মানুষ অক্ষম হলে ওয়াজিব রহিত হয়ে যায়।
● প্রয়োজন (যরুরত) দেখা দিলে হারামও হালাল হয়ে যায়; তবে যরুরত পরিমাণমতো নির্ধারিত—এতে বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
● কুরআন ও সুন্নাহর আদেশের মূলনীতি হলো—ওয়াজিব ধরা; যদি না এমন কোনো দলিল থাকে যা তা মুস্তাহাবে পরিবর্তন করে।
● নিষেধাজ্ঞার মূলনীতি হলো—হারাম ধরা; যদি না এমন কোনো দলিল থাকে যা তা মাকরুহে পরিবর্তন করে।
❖ হক হলো সেটাই, যার পক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর শরঈ দলিল প্রতিষ্ঠিত।
মানুষ যা বলে বা করে—তা হক হওয়ার মানদণ্ড নয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া মানেই হকের উপর থাকা নয়;
কারণ হক দলিলের সাথে সম্পর্কিত—মানুষের সংখ্যা বেশি না কম, তার সাথে নয়।
✍️ Abubakar Muhammad Zakaria (Hafizahullah)
https://www.facebook.com/share/p/1BEWF7xQUb/